শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমবিশ্বইরানের বিরোধী নেতা রেজা পাহলভির জনসমর্থন নিয়ে সন্দেহ ট্রাম্পের, শাসনব্যবস্থা ভাঙনের ইঙ্গিত

ইরানের বিরোধী নেতা রেজা পাহলভির জনসমর্থন নিয়ে সন্দেহ ট্রাম্পের, শাসনব্যবস্থা ভাঙনের ইঙ্গিত

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ইরানের বিরোধী নেতা রেজা পাহলভির জনসমর্থন নিয়ে সন্দেহ ট্রাম্পের, শাসনব্যবস্থা ভাঙনের ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরোধী নেতা রেজা শাহ পাহলভি ব্যক্তিগতভাবে ভদ্র ও ভালো মানুষ বলে মনে হলেও তিনি ইরানের ভেতরে পর্যাপ্ত জনসমর্থন আদৌ অর্জন করতে পারবেন কি না—তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন।


বুধবার ওভাল অফিসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, রেজা পাহলভিকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার মতো অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র এখনো পৌঁছায়নি।


ট্রাম্প বলেন, “তিনি ভালো মানুষ মনে হয়, কিন্তু নিজের দেশে তাকে মানুষ কীভাবে গ্রহণ করবে, তা আমি জানি না। আমরা এখনো সেই পর্যায়ে নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, যদি ইরানি জনগণ পাহলভির নেতৃত্ব মেনে নেয়, তাহলে তা তার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।


এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রেজা পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা তার নেই। সর্বশেষ মন্তব্যে পাহলভির নেতৃত্বের সক্ষমতা ও বাস্তব সমর্থন নিয়ে তার সংশয় আরও স্পষ্ট হলো।


ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংস দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে হাজারো মানুষের মৃত্যুর খবর সামনে আসায় ট্রাম্প আগেও আন্দোলনকারীদের পক্ষে হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ইরানের বিরোধী নেতৃত্ব নিয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন।


যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ৬৫ বছর বয়সী রেজা পাহলভি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের আগেই ইরান ত্যাগ করেন। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত কণ্ঠস্বর হয়ে উঠলেও ইরানের বিরোধী শক্তিগুলো আদর্শিকভাবে বিভক্ত। রাজতন্ত্রপন্থীরা তাকে সমর্থন করলেও দেশের ভেতরে বিরোধীদের সংগঠিত উপস্থিতি সীমিত বলে বিশ্লেষকদের মত।


সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বিক্ষোভের চাপে তেহরানের সরকার পতনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে তিনি মন্তব্য করেন, বাস্তবতা হলো—যেকোনো সরকারই ভেঙে পড়তে পারে। পতন হোক বা না হোক, বর্তমান সময়টিকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।


সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় অচলাবস্থার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দায়ী করেন। পাশাপাশি ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে নিয়ে বিচার বিভাগের তদন্তে রিপাবলিকানদের সমালোচনাও তিনি নাকচ করে দেন।


নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছর শেষের পথে থাকা ট্রাম্প বলেন, সাধারণত ক্ষমতায় আসার পর মধ্যবর্তী কংগ্রেসনাল নির্বাচনে জয় পাওয়া কঠিন হয়। তবুও রিপাবলিকানরা আগামী নির্বাচনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।