ইরানের বিক্ষোভে নিহত অন্তত ৫ হাজার, মৃত্যুদণ্ডের ইঙ্গিত বিচার বিভাগের
ইরানে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন দেশটির একজন আঞ্চলিক পর্যায়ের কর্মকর্তা। নিহতদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বলে জানান তিনি। যাচাইকৃত পরিসংখ্যানের বরাতে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সন্ত্রাসী ও সশস্ত্র দাঙ্গাবাজরা’ বহু ‘নিরীহ ইরানিকে’ হত্যা করেছে।
অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই তা ধর্মীয় শাসনের অবসানের দাবিতে ব্যাপক আন্দোলনে রূপ নেয়। এই অস্থিরতাকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে বলে সতর্ক করেন তিনি। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প তেহরানের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নির্ধারিত গণ-ফাঁসি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি শনিবার বলেন, দেশকে যুদ্ধে টেনে নেওয়া হবে না, তবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অপরাধীদের শাস্তির প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই দিন বিচার বিভাগ ইঙ্গিত দেয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে।
বিচার বিভাগের মুখপাত্র আসগর জাহাঙ্গির এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, কিছু কর্মকাণ্ডকে ‘মোহারেব’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইসলামী আইনে মোহারেব—অর্থাৎ ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার—শাস্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
শনিবার মার্কিন গণমাধ্যম পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানে নতুন নেতৃত্বের সময় এসে গেছে।
খামেনি সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে ‘কয়েক হাজার মৃত্যুর’ বিষয়টি স্বীকার করেছেন। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত তিন হাজার ৩০৮ জনে পৌঁছেছে এবং আরও চার হাজার ৩৮২টি মৃত্যুর ঘটনা যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। সংগঠনটি আরও জানায়, ২৪ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওই ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেন, যাচাইকৃত নিহতের সংখ্যা আর খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তার অভিযোগ, ইসরায়েল ও বিদেশে অবস্থানরত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বিক্ষোভকারীদের সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে।
ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব বরাবরই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ বিদেশি শক্তিগুলোকে দায়ী করে আসছে। উল্লেখ্য, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের চিরশত্রু ইসরায়েল গত জুন মাসে ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালিয়েছিল।