শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমবিশ্বআফগানিস্তান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া: সমালোচনায় স্টারমার ও প্রিন্স হ্যারি

আফগানিস্তান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া: সমালোচনায় স্টারমার ও প্রিন্স হ্যারি

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
আফগানিস্তান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া: সমালোচনায় স্টারমার ও প্রিন্স হ্যারি

আফগানিস্তান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অপমানজনক ও নিন্দনীয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এবং সাসেক্সের ডিউক প্রিন্স হ্যারি। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।


ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, আফগানিস্তান যুদ্ধে ইউরোপীয় সেনারা সামনের সারিতে সক্রিয় ছিল না এবং যুক্তরাষ্ট্রের কখনোই তাদের প্রকৃত প্রয়োজন হয়নি। তিনি বলেন, মিত্র দেশগুলো সেনা পাঠালেও তারা মূল লড়াই থেকে অনেকটা পিছনে ছিল। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনের সময় ন্যাটো আদৌ পাশে দাঁড়াবে কি না, সে বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।


এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ কার্যকর হলে যুক্তরাজ্যসহ বহু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আফগানিস্তান যুদ্ধে অংশ নেয়।


প্রিন্স হ্যারি আফগানিস্তান যুদ্ধে ন্যাটো সেনাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, এসব বিষয় ‘সত্য ও সম্মানের সঙ্গে’ উপস্থাপন করা উচিত। আফগানিস্তানে দুই দফা দায়িত্ব পালন করা প্রিন্স হ্যারি বলেন, তিনি সেখানে আজীবনের বন্ধু পেয়েছেন, আবার বন্ধু হারিয়েছেনও। তাঁর ভাষায়, হাজার হাজার মানুষের জীবন এই যুদ্ধে চিরতরে বদলে গেছে, বহু পরিবার আজও সেই ক্ষতির বোঝা বহন করছে।


তিনি জানান, আফগানিস্তান যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ৪৫৭ জন সেনাসদস্যসহ অসংখ্য ন্যাটো সেনা প্রাণ হারান। প্রিন্স হ্যারি বলেন, ২০০১ সালে ন্যাটো ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনুচ্ছেদ ৫ কার্যকর হয় এবং মিত্র দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দিয়েছিল।


যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অপমানজনক ও সত্যিই নিন্দনীয়’ বলে উল্লেখ করে বলেন, তিনি নিজে এমন ভুল বক্তব্য দিলে ক্ষমা চাইতেন। স্টারমার বলেন, নিহত ও আহত সেনাদের সাহস ও আত্মত্যাগ কখনোই ভুলে যাওয়ার নয়, আর এমন মন্তব্যে তাদের পরিবার ও পুরো দেশ গভীরভাবে কষ্ট পেয়েছে।


যুক্তরাজ্যের বাইরে পোল্যান্ড, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের নেতারাও ট্রাম্পের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি বলেন, সেনাদের আত্মত্যাগ নিয়ে বিদ্রূপ করার অধিকার কারও নেই। কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডেভিড জে ম্যাকগিন্টি জানান, আফগানিস্তানে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে কানাডার ১৫৮ জন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন।


ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব ইয়াপ দে হুপ স্কেফার বলেন, কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টেরই মিত্র সেনাদের উত্তরাধিকার খাটো করার অধিকার নেই এবং ট্রাম্পের কাছ থেকে একটি আন্তরিক ক্ষমা প্রত্যাশা করেন তিনি।


২০০১ সালের অক্টোবরে তালেবান সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে আফগানিস্তানে অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ২০ বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে জোটবাহিনীর সাড়ে তিন হাজারের বেশি সেনা নিহত হন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি সেনা হারায় যুক্তরাজ্য।


সূত্র: বিবিসি