শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার , ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমবিশ্বসমালোচনার মুখে এবার ব্রিটিশ সেনাদের প্রশংসা করলেন ট্রাম্প

সমালোচনার মুখে এবার ব্রিটিশ সেনাদের প্রশংসা করলেন ট্রাম্প

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
সমালোচনার মুখে এবার ব্রিটিশ সেনাদের প্রশংসা করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তানে যুদ্ধ করা যুক্তরাজ্যের সেনাদের প্রশংসা করেছেন। ন্যাটো মিত্র বাহিনী যুদ্ধের সম্মুখ সারিতে ছিল না— এমন মন্তব্যের জেরে সাবেক সেনা, তাদের পরিবার ও রাজনীতিকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পর তিনি এই অবস্থান নেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ন্যাটো বাহিনীর ভূমিকাকে খাটো করে দেখান এবং প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কখনো প্রয়োজন হলে সামরিক জোটটি আদৌ পাশে দাঁড়াবে কি না। তার এ বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ট্রাম্পের ওই মন্তব্যকে ‘অপমানজনক ও সত্যিই ভয়াবহ’ বলে আখ্যা দেন।

স্টারমারের সঙ্গে শনিবার ফোনালাপের পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ যুক্তরাজ্যের সেনাদের ‘সর্বকালের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধাদের অন্যতম’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,
‘আমাদের কখনো তাদের প্রয়োজন হয়নি। আমরা আসলে তাদের কাছ থেকে কিছু চাইওনি। তারা বলবে, তারা আফগানিস্তানে কিছু সেনা পাঠিয়েছিল… এবং তারা পাঠিয়েছিল, কিন্তু তারা একটু পেছনে ছিল, সামনের সারি থেকে কিছুটা দূরে।’

এই মন্তব্যের পর আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করা সেনাদের পরিবার, সাবেক যোদ্ধা এবং যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের রাজনীতিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই ট্রাম্পের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

যুক্তরাজ্যের প্রিন্স হ্যারি বলেন, সেনাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান দেখানো অত্যন্ত জরুরি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তা ধারা একবারই প্রয়োগ করা হয়েছিল—২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর।

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করার আগ পর্যন্ত জোটভুক্ত বাহিনীর সাড়ে তিন হাজারের বেশি সেনা নিহত হন। এদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ছিলেন মার্কিন নাগরিক। প্রাণহানির সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পরেই ছিল যুক্তরাজ্য—যুদ্ধে দেশটির ৪৫৭ জন সেনা নিহত হন এবং বহু সেনা গুরুতর আহত হন।

ডাউনিং স্ট্রিট জানায়, ফোনালাপে প্রধানমন্ত্রী আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করা ব্রিটিশ সেনাদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। এক মুখপাত্র বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সাহসী ও বীর ব্রিটিশ ও মার্কিন সেনাদের কথা স্মরণ করেছেন, যাদের অনেকেই আর ঘরে ফিরতে পারেননি।’