শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
হোমজাতীয়সংস্কার প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরেই ‘অন্তর্ঘাত’: টিআইবি

সংস্কার প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরেই ‘অন্তর্ঘাত’: টিআইবি

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
সংস্কার প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরেই ‘অন্তর্ঘাত’: টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে শুধু আমলাতন্ত্রের একটি অংশ নয়, উপদেষ্টা পরিষদের অন্তত সাতজন সদস্যও সংস্কারবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। এ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।


সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সংস্কার কমিশনের জমা দেওয়া বহু কৌশলগত সুপারিশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাতিল করা হয়েছে। দু-একটি সুপারিশ বাস্তবায়িত হলেও তা কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি আনতে পারেনি।


ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংস্কার কমিশন ও ঐকমত্য কমিশন গঠন, একাধিক হোয়াইট পেপার কমিটি তৈরি এবং বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা। তবে তিনি বলেন, যেসব মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য ছিল এবং যেখানে কোনো নোট অব ডিসেন্টও ছিল না, সেসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সরকার কাঠামো গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে এসব প্রতিষ্ঠানে অ্যাডহক ভিত্তিতে সংস্কার হয়েছে, যা হতাশাজনক।


দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান হিসেবে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কমিশনের সুপারিশগুলো দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে প্রণয়ন করা হয়েছিল। স্বল্প সময়ে মাত্র ৪৭টি নির্দিষ্ট সুপারিশ দেওয়া হয়। সরকার আশু করণীয় সুপারিশ জানতে চেয়েছিল এবং গত বছরের মার্চে তা হস্তান্তর করা হয়। তবে সেসব সুপারিশের মধ্যে মাত্র কয়েকটি বাস্তবায়ন হয়েছে, যার ফলে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।


তিনি বলেন, দুদকের জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা কমিশনের কার্যক্রম তদারকি করবে। এমনকি দুদকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তারা সংস্কারে সম্মতও হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে সুপারিশগুলো বাতিল হয়ে যায়, যা স্পষ্ট অন্তর্ঘাতের শামিল।


ড. ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেন, দুদকের অভ্যন্তরেই দুর্নীতি ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাদের অনেকেই নিয়মিত পে-রোলে আছেন। কমিশনের সুপারিশ ছিল, অভিযোগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনা। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। কেবল দুদক আইন-২০০৪ সংশোধন করে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।


তিনি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে চারটি মৌলিক উপাদান প্রয়োজন—রাজনৈতিক সদিচ্ছা, অভিযোগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পরিচয়-অবস্থান নির্বিশেষে জবাবদিহি, দুদকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ।


সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ, পেশিশক্তি ও ধর্ম রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। জুলাই-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মকে অতিমাত্রায় প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, যা শুধু ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নয়, বৃহৎ রাজনৈতিক দল ও নতুন রাজনৈতিক শক্তির মধ্যেও লক্ষণীয়। এই প্রবণতা জাতির আত্মপরিচয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।