‘সাফোক স্ট্র্যাংলার’ ২৫ বছর আগের কিশোরী হত্যাকাণ্ডে দোষ স্বীকার
ব্রিটিশ ধারাবাহিক খুনি স্টিভ রাইট, যাকে গণমাধ্যমে ‘সাফোক স্ট্র্যাংলার’ নামে ডাকা হয়, সোমবার ২৫ বছরেরও বেশি আগে সংঘটিত এক কিশোরী হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
২০০৬ সালের পাঁচ নারী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করা রাইট, লন্ডনের ওল্ড বেইলি আদালতে হাজির হয়ে ১৯৯৯ সালে ১৭ বছর বয়সী ভিক্টোরিয়া হলকে অপহরণ ও হত্যা করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এছাড়া হত্যার আগের দিন ২২ বছর বয়সী এক নারীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগেও তিনি দোষ স্বীকার করেন। শুক্রবার তার সাজা ঘোষণা করা হবে।
সাফোক পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল অ্যালিস স্কট জানান, “ভিক্টোরিয়ার পরিবার ২৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই দিনের অপেক্ষায় ছিলেন। অবশেষে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে এবং তারা জানেন, কে দায়ী।”
ভিক্টোরিয়া হল পূর্ব ইংল্যান্ডের উপকূলীয় শহর ফেলিক্সস্টো থেকে একটি নাইটক্লাব থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। পাঁচ দিন পর তার নগ্ন মরদেহ ৪০ কিলোমিটার দূরের একটি খালে পাওয়া যায়।
২০০৮ সালে রাইট ইপসউইচ শহরে যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করা পাঁচ নারীকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। নিহতরা হলেন জেমা অ্যাডামস, তানিয়া নিকোল, অ্যানেলি অলডারটন, পলা ক্লেনেল ও অ্যানেট নিকোলস। তাদের মরদেহ ইপসউইচের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পাওয়া যায়।
রাইটের এই হত্যাযজ্ঞের তুলনা করা হয় ১৯শ শতকের ধারাবাহিক খুনি ‘জ্যাক দ্য রিপার’-এর সঙ্গে। বিচারক এই হত্যাকাণ্ডকে ‘লক্ষ্যভিত্তিক হত্যার একটি অভিযান’ বলে উল্লেখ করে তাকে ‘হোল-লাইফ অর্ডার’ দেন, অর্থাৎ তিনি কখনোই কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন না।
এর আগে রাইট ধারাবাহিকভাবে পুরোনো অভিযোগগুলো অস্বীকার করে আসছিলেন, যদিও তিনজন ভুক্তভোগীর শরীরে তার ডিএনএ পাওয়া গেছে এবং তার বাড়িতে থাকা জ্যাকেটে দু’জনের রক্তের দাগ শনাক্ত করা হয়েছিল। সোমবারের দোষ স্বীকারের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো তিনি নিজ দায় স্বীকার করলেন।