শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
হোমজাতীয়ভোট দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

ভোট দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ভোট দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

সকাল ১০টার পর রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়ক গণভোটে ভোট দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে একটি আসনে ভোট স্থগিত থাকায় ২৯৯টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচনে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।

মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৮১ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি, যারা ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৮ জন প্রার্থী দিয়েছে ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে। জামায়াতের ২২৯ জন প্রার্থী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে, জাতীয় পার্টির ১৯৮ জন প্রার্থী ‘লাঙ্গল’ প্রতীক নিয়ে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩২ জন প্রার্থী ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষক অনুমোদন পেয়েছেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন।

সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৬৫৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। মোট বুথ বা ভোটকক্ষ রয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি। এর মধ্যে পুরুষ বুথ প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি এবং নারী বুথ প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি। সবচেয়ে বেশি কেন্দ্র রয়েছে ঢাকা বিভাগে। গাজীপুর-২ আসনকে সবচেয়ে বড় নির্বাচনী এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেছে ইসি। 

ভোটগ্রহণে মোট ৮ লাখের বেশি কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন। এর মধ্যে ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন।

এবার ভোটারদের দুটি পৃথক ব্যালট পেপার দেওয়া হচ্ছে—একটিতে সংসদীয় আসনের প্রার্থীর প্রতীক এবং অন্যটিতে সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তন বা ‘জুলাই সনদ’ অনুমোদনের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোট ৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৪৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ জন, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫, পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র‌্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ এবং আনসার ও ভিডিপির ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন সদস্য রয়েছেন। এছাড়া ১ হাজার ৯২২ জন বিএনসিসি ক্যাডেট ও ৪৫ হাজার ৮২০ জন গ্রাম পুলিশ দায়িত্ব পালন করছেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকিতে ২ হাজার ১০০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন। নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগ পাওয়া গেলে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরা সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করবেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন।

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। এখন ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো দেশ।