শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
হোমজাতীয়ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিশ্চিত করে প্রায় দুই দশক পর আবারও একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠনের পথে দলটি।

নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব মো. মঈন উদ্দিন খান বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানান, ২৭২টি আসনের ফলাফল তাদের হাতে এসেছে। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিএনপি পেয়েছে ২০১টি আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৫৩টি আসন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৪টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন ৬ জন এবং অন্যান্য দল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন অন্তত ৮ জন প্রার্থী।

জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৫১টি আসন। সেই হিসেবে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে সংসদে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বিএনপি।

সর্বশেষ ২০০১ সালের নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। সে সময় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও চারদলীয় জোটের নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হয়েছিল। ওই নির্বাচনে দলটি ১৯৫টি আসনে জয়ী হয়েছিল।

ইসি জানিয়েছে, খুব দ্রুতই নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। গেজেট প্রকাশের পরপরই নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং নতুন সংসদের অধিবেশন আয়োজন করা সম্ভব হবে। ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ হিসেবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, টানা ২৪ ঘণ্টা কাজের পর অনেক কর্মকর্তার কাছ থেকে এখনও বার্তাশিট পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে এক বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় সেখানে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে নতুন তফসিল ঘোষণা করে ওই আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে।

ইসি ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে জয়লাভ করেছেন। দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও নিজ নিজ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতের আমীর ঢাকা-১৫ আসনে জয় পেয়েছেন। এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম জয়ী হয়েছেন ঢাকা-১১ আসনে।

২৯৯টি আসনের নির্বাচনে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নেয়। মোট প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৮৩ জন, যার মধ্যে ৬৩ জন দলীয় এবং ২০ জন স্বতন্ত্র। পুরুষ প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৯৪৬ জন। সবচেয়ে বেশি ২৯০ জন প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। জামায়াতের প্রার্থী ছিল ২২৭ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৭ জন, জাতীয় পার্টির (জাপা) ২০০ জন, এনসিপির ৩২ জন এবং গণঅধিকার পরিষদের ৯৪ জন।

নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০, পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১ হাজার ২৩২ জন। শেরপুর-৩ আসনের ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৩৭ জন ভোটার এবার ভোট দিতে পারেননি। ফলে ২৯৯টি আসনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫৬ জন।

এখনও মোট ভোটদানের হার জানানো হয়নি। তবে পোস্টাল ব্যালটের তথ্য প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রবাসী ও দেশের ভেতরের সরকারি চাকরিজীবী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং কারাবন্দীদের মিলিয়ে ১৫ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ জন পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১২ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ জন, যা মোট নিবন্ধিত ভোটারের ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ। এর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ ভোট বাতিল হয়েছে।

ভোটের আগের দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন সকল দল ও প্রার্থীদের জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। তবে ইতোমধ্যে ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে জামায়াত।

ভোটের সার্বিক হার ও পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।