শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
হোমজাতীয়দেড় বছরের বন্দিদশা, জরুরি অবস্থা চাপ ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠন: রাষ্ট্রপতির খোলামেলা সাক্ষাৎকার

দেড় বছরের বন্দিদশা, জরুরি অবস্থা চাপ ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠন: রাষ্ট্রপতির খোলামেলা সাক্ষাৎকার

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
দেড় বছরের বন্দিদশা, জরুরি অবস্থা চাপ ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠন: রাষ্ট্রপতির খোলামেলা সাক্ষাৎকার

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দেড় বছরকে বর্ণনা করেছেন “প্রাসাদবন্দি” সময় হিসেবে। বঙ্গভবনে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পালাবদল, জরুরি অবস্থা জারির চাপ, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সাংবিধানিক জটিলতা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।


৫ আগস্টের দিনটি: দ্রুত বদলে যাওয়া পরিস্থিতি


রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন দুপুরের মধ্যে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। প্রথমে জানানো হয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসতে পারেন, পরে জানা যায় তিনি দেশত্যাগ করেছেন। বিকেলে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ফোনে পরিস্থিতি জানান। পরে তিন বাহিনীর প্রধান বঙ্গভবনে এসে আলোচনায় বসেন।


দীর্ঘ আলোচনার পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক হয়। সেখানে তত্ত্বাবধায়ক, সর্বদলীয় ও অন্তর্বর্তী—এই তিন ধরনের সরকারের প্রস্তাব ওঠে। শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয় এবং জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার দায়িত্ব পান রাষ্ট্রপতি।


জরুরি অবস্থা জারির চাপ


রাষ্ট্রপতি জানান, বিভিন্ন মহল থেকে তাকে জরুরি অবস্থা জারির জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্ব সামরিক শাসন বা জরুরি অবস্থার বিপক্ষে ছিল। তার দাবি, সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্য ছিল নির্বাচন আয়োজনের পথ সুগম করা, ক্ষমতায় আসা নয়।


সাংবিধানিক সংকট ও সুপ্রিম কোর্টের মতামত


অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধানে না থাকায় তিনি তৎকালীন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আপিল বিভাগের মতামত চান। আদালতের মতামতের ভিত্তিতেই অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন বলে জানান তিনি।


প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন


ছাত্রনেতাদের পক্ষ থেকে মুহাম্মদ ইউনূস-কেই প্রধান উপদেষ্টা করার দাবি ছিল। তিনি তখন ফ্রান্সে চিকিৎসাধীন থাকায় কিছুটা বিলম্ব হয়। বিকল্প হিসেবে কয়েকজনের নাম উঠলেও শেষ পর্যন্ত ইউনূসের নামেই ঐকমত্য হয়। দেশে ফিরে তিনি উপদেষ্টা তালিকায় কিছু পরিবর্তন আনেন।


মব সহিংসতা ও সরকারের ভূমিকা


রাষ্ট্রপতি বলেন, সেই সময় দেশে মব সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় কঠোর ব্যবস্থা নিলে উল্টো ফল হতে পারত বলে তিনি মনে করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে নীরব ছিল। পরে নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।


জাতীয় সংগীত বিতর্ক ও বিদেশ সফর


জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের আলোচনা এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিদেশি পতাকা ওড়ানোর ঘটনাকে তিনি “দুঃখজনক” বলেন।


তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাকে ঈদের নামাজে জাতীয় ঈদগাহে যেতে দেওয়া হয়নি এবং বিদেশে চিকিৎসার অনুমতিও পাননি। তার ভাষায়, তাকে মানসিকভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল।


নতুন সরকার ও তার অবস্থান


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে তিনি শান্তিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি সাংবিধানিকভাবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে আছেন। তবে নির্বাচিত সরকার যদি মনে করে তার সরে যাওয়া উচিত, তাহলে তিনি সম্মানজনকভাবে পদত্যাগ করতে প্রস্তুত।


ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা


অবসরের পর আবার আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তার ভাষায়, “যদি শরীর ভালো থাকে, আইনি পরামর্শক হিসেবেই বাকি জীবন কাটাতে চাই।”