দেশে মশা বাড়ার পেছনে তিন কারণ চিহ্নিত
শীতের বিদায় ও বসন্তের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশে মশার উপদ্রব বেড়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ জেলা-উপজেলা শহরগুলোতে মশার দাপটে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের এই সময়ে মশা কিছুটা বাড়লেও এবার উপদ্রব তুলনামূলক বেশি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার মশা বৃদ্ধির পেছনে তিনটি প্রধান কারণ তুলে ধরেছেন।
প্রথমত, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার দুর্বলতা। তার মতে, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম ভঙ্গুর হয়ে পড়ায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যত অকার্যকর ছিল। ফলে জনবহুল এলাকায় মশার বিস্তার বেড়েছে।
দ্বিতীয়ত, দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ায় ড্রেন, ডোবা ও নর্দমায় জমে থাকা পানি স্থির হয়ে পচে গেছে। এতে কিউলেক্স মশার বংশবৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ৯২ শতাংশ মশাই কিউলেক্স প্রজাতির, যা মূলত পচা পানিতে জন্মায়। বসন্তে তাপমাত্রা বাড়ায় এদের প্রজনন আরও দ্রুত হয়েছে।
তৃতীয়ত, মশা নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব। অধ্যাপক বাশারের মতে, কেবল সাম্প্রতিক সময় নয়, বরাবরই মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পিত উদ্যোগের ঘাটতি ছিল।
তিনি মনে করেন, শুষ্ক মৌসুমে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা হলে মশার বংশবৃদ্ধি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হতো।