শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
শুক্রবার , ২৬ জুন ২০২৬
হোমজাতীয়২৩ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের পতাকায় হারিয়ে যায় ‘পাকিস্তান দিবস’

২৩ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের পতাকায় হারিয়ে যায় ‘পাকিস্তান দিবস’

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
২৩ মার্চ ১৯৭১: প্রতিরোধের পতাকায় হারিয়ে যায় ‘পাকিস্তান দিবস’

১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ—বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দিনে ‘পাকিস্তান দিবস’ কার্যত মুছে গিয়ে রূপ নেয় প্রতিরোধের প্রতীকে। ন্যাপ (ভাসানী) দিনটিকে ‘স্বাধীন পূর্ববঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালন করে, যা বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে আরও জোরালো করে তোলে।

সেদিন রাজধানী ঢাকা পরিণত হয় পতাকার নগরীতে। প্রেসিডেন্ট ভবন, গভর্নর হাউস, সেনানিবাস ও বিমানবন্দর ছাড়া প্রায় সব জায়গায় উড়তে থাকে স্বাধীন বাংলার পতাকা। এমনকি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালেও, যেখানে অবস্থান করছিলেন জুলফিকার আলী ভুট্টো, সেখানেও উত্তোলন করা হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা।

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম তার বিখ্যাত গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি-তে দিনটিকে ‘প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করে লিখেছেন, সেদিন ঘরে ঘরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল, যা মানুষের মনে এক নতুন আশার সঞ্চার করে।

বিদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও এদিন ছিল ব্যতিক্রমী দৃশ্য। যুক্তরাজ্য ও সোভিয়েত কনসুলেটে স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়তে দেখা যায়। অন্যদিকে কিছু দেশ প্রথমে পাকিস্তানের পতাকা তুললেও জনদাবির মুখে তা নামিয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর নির্দেশে দিনটি সাধারণ ছুটি হিসেবে পালন করা হয়। পল্টন ময়দানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে এবং ‘আমার সোনার বাংলা’ গান পরিবেশনের মাধ্যমে জনতা স্বাধীনতার স্বাদ অনুভব করে।

সেদিন ছাত্রনেতা নূরে আলম সিদ্দিকী, মোস্তফা মহসীন মন্টু, হাসানুল হক ইনুসহ অন্যান্য নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলনে অংশ নেন। পরে পল্টন থেকে মিছিল বের হয়ে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে জনতার উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বলেন, বাঙালি জাতি নিজেদের শক্তিতেই স্বাধীনতা অর্জন করবে।

এদিন গণমাধ্যমেও দেখা যায় প্রতিরোধের ছাপ। টেলিভিশনের বাঙালি কর্মীরা পাকিস্তানের জাতীয় সংগীত ও পতাকা প্রচার থেকে বিরত থেকে ‘বাংলাদেশ সময়’ ঘোষণা দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন। একই সঙ্গে কবিতা, নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বাধীনতার চেতনা আরও জাগ্রত করা হয়।

সব মিলিয়ে, ২৩ মার্চ ১৯৭১ ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের এক দৃপ্ত ঘোষণা—যেখানে প্রতিরোধের পতাকায় ঢাকা পড়ে যায় ‘পাকিস্তান দিবস’-এর আনুষ্ঠানিকতা।