বুধবার , ১৩ মে ২০২৬
বুধবার , ১৩ মে ২০২৬
হোমজাতীয়জ্বালানি সংকটে ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন সরকারের

জ্বালানি সংকটে ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন সরকারের

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
জ্বালানি সংকটে ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন সরকারের

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাত সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন-এ অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, তিনটি বিদেশি কোম্পানি থেকে সমানভাবে ১ লাখ টন করে ডিজেল কেনা হবে। অনুমোদিত কোম্পানিগুলো হলো—ইয়ার এনার্জি এজি, কে অ্যান্ড আর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কোম্পানি এবং সিকদার ইন্টারন্যাশনাল।

সাধারণত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি করে। তবে বর্তমান জরুরি পরিস্থিতিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা গণখাতে ক্রয় আইন ২০০৬ ও ক্রয় বিধি ২০০৮-এর বিশেষ বিধান অনুযায়ী বৈধ।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, বিপিসি সাধারণত ৫০ শতাংশ জ্বালানি ‘সরকার টু সরকার’ (জিটুজি) পদ্ধতিতে এবং বাকি ৫০ শতাংশ আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে সংগ্রহ করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সেই প্রচলিত পদ্ধতি থেকে সরে এসেছে সরকার।

আমদানিকৃত এই ডিজেল ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি-তে প্রক্রিয়াজাত করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই জরুরি সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল-এর যৌথ সামরিক অভিযানের পর গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি-তে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে অনেক রপ্তানিকারক দেশ সরবরাহ সীমিত করে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ মজুদ ঠিক রাখা এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার দ্রুত আমদানির এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।