খানজাহান আলীর মাজারে কুমিরের শিকার কুকুর, মাথা পাঠানো হলো ঢাকায় পরীক্ষার জন্য
বাগেরহাট-এর ঐতিহ্যবাহী খানজাহান আলীর মাজার সংলগ্ন দীঘিতে থাকা একটি কুমিরের শিকার হওয়া কুকুরের মাথা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এটি পাঠানো হয়েছে সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি (সিডিআইএল)-এ।
গত বুধবার বিকেলে মাজারের ঘাট এলাকা থেকে কুকুরটিকে কুমির টেনে নিয়ে যায়। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে ফেসবুক-এ এ নিয়ে নানা ধরনের দাবি ও বিতর্ক দেখা যায়।
কেউ কেউ অভিযোগ করেন, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের সামনে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেকে বলেন, মাজারের কুমিরকে নিয়মিত কুকুর খাওয়ানো হয়। তবে ভিডিও বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, কুকুরটি অসুস্থ ছিল এবং লোকজনকে কামড়ানোর পর তাড়া খেয়ে ঘাটে গিয়ে পড়ে, যেখানে কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সদস্য শেখ মোহাম্মাদ নূর আলম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকে, তবে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় ঘাটে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল। কুকুরটি আচমকা দৌড়ে এসে কয়েকজনকে কামড়ানোর চেষ্টা করে এবং এক নিরাপত্তাকর্মীকেও আক্রমণ করে। পরে কুকুরটি ঘাটের নিচে নেমে গেলে সেখানে থাকা কুমিরটি তাকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর কুকুরটির মরদেহ উদ্ধার করে দাফন করা হয়। এদিকে ঘটনাটি তদন্তে আতিয়া খাতুন-কে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও কুকুরটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছে।