পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, দক্ষিণ লেবাননেও ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত
ভোরের আলো ডেস্ক:
০৯ মে ২০২৬, ০৪:১১ অপরাহ্ন
অধিকৃত পশ্চিম তীর–এর বিভিন্ন এলাকায় আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। এসব হামলায় বাড়িঘরে আগুন দেওয়া, গাড়ি ভাঙচুর এবং ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে দক্ষিণ লেবানন–এও ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে।
ওয়াফা জানিয়েছে, হেবরনের দক্ষিণে খিরবেত শুয়েইকা গ্রামে এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তি ও তার শিশুসন্তানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করা হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এছাড়া জেনিনের আল-আসা’আসা গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী একটি সদ্য দাফন করা মরদেহ কবর থেকে তুলে অন্যত্র স্থানান্তর করতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, কবরস্থানটি একটি অবৈধ ইসরায়েলি বসতির খুব কাছে ছিল।
নাবলুসের দক্ষিণে আল-লুব্বান আশারকিয়া গ্রামে বসতি স্থাপনকারীরা একটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। রামাল্লার উত্তর-পূর্বে আবু ফালাহ এলাকায়ও হামলার সময় একটি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং বাড়ির দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগান লেখা হয়।
বেথলেহেমের দক্ষিণে বেইত ফাজ্জার এলাকায় এক ফিলিস্তিনি ব্যক্তিকে মারধর ও তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই অঞ্চলের বুরাক সুলায়মান এলাকায় বনভোজনে থাকা ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে তারা এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।
ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, কাঁদানে গ্যাসে আক্রান্ত কয়েকজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং আরও কয়েকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে একজন বেসামরিক প্রতিরক্ষা উদ্ধারকর্মীও রয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টায়ার জেলার তোরা শহরে হামলায় দুই নারীসহ চারজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন।
ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজ চলছে। এছাড়া নাবাতিয়েহ, বিন্ট জেবেইল ও সিডন এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদরাই দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের নতুন করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ঘটনায় বসতি স্থাপনকারীরা কার্যত দায়মুক্তি পাচ্ছে। বর্তমানে পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলোতে সাত লাখের বেশি ইসরায়েলি বসবাস করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার | ০৯ মে ২০২৬
পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা, দক্ষিণ লেবাননেও ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত