ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য চুক্তিতে ইসরাইল বাদ পড়ায় উদ্বেগ, টানাপোড়েন বাড়ছে সম্পর্কের মধ্যে
আলোচনা চললেও সেখানে ইসরাইলকে অন্তর্ভুক্ত না করায় দেশটির মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই ইসরাইলের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, বিষয়টি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এখনো দৃঢ় ও শক্তিশালী রয়েছে।
তবে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের মতে, সম্ভাব্য চুক্তির খসড়া নিয়ে তারা সন্তুষ্ট নন এবং এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
দখলকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক নিদা ইব্রাহিম জানিয়েছেন, ইসরাইলের প্রধান উদ্বেগ হলো—চুক্তিতে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ না থাকা।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নেতানিয়াহু তার কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে মন্তব্য থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
অন্যদিকে ইসরাইলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সম্ভাব্য এই চুক্তির ফলে লেবাননে চলমান সংঘাতের পর ইসরাইলের সামরিক তৎপরতা সীমিত হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা দেশটির সামরিক মহলেও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে নীতিগত মতপার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।