ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্নীতি, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং নানা আর্থিক সংকটের মধ্যেই সরকার নতুন বাজেট প্রণয়ন করেছে। তিনি বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে সরকার দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় একটি নাজুক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল। দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা, ভুল নীতি, অর্থপাচার, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং বিনিয়োগে স্থবিরতার মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার সংকটকে অস্বীকার না করে বাস্তবতা মেনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা করছে। তার মতে, রাজনৈতিক সরকার হিসেবে জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনে সরকার কিছুটা হলেও সফল হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি আনতে পেরেছে।
বিরোধী দলের চিফ হুইফের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ছিল। দুর্নীতি, অর্থপাচার ও নীতিগত ব্যর্থতার কারণে উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, অতীতে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, যার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে স্পষ্টভাবে পড়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় ভোগান্তির শিকার হয়েছেন এবং পুঁজিবাজারের অস্থিরতায় বহু বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অবনতির বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থপাচার ও অপচয়ের কারণে রিজার্ভ আশঙ্কাজনক পর্যায়ে নেমে এসেছিল। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশি-বিদেশি ঋণ নেওয়ায় ঋণের চাপ বেড়েছে এবং ভবিষ্যতেও সেই দায় বহন করতে হবে।
শেষে তিনি বলেন, সরকার সংকটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চায় না। বরং জনগণের সহযোগিতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং বাস্তবসম্মত নীতির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার আশাবাদী।