বুধবার , ০১ জুলাই ২০২৬
বুধবার , ০১ জুলাই ২০২৬
হোমবিশ্বআর্মেনীয় গণহত্যার স্বীকৃতিতে ইসরায়েলকে কড়া বার্তা দিল আজারবাইজান

আর্মেনীয় গণহত্যার স্বীকৃতিতে ইসরায়েলকে কড়া বার্তা দিল আজারবাইজান

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
আর্মেনীয় গণহত্যার স্বীকৃতিতে ইসরায়েলকে কড়া বার্তা দিল আজারবাইজান

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় আর্মেনীয়দের ওপর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ইসরায়েলের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে আজারবাইজান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এ সিদ্ধান্ত তাদের জন্য ‘গভীর উদ্বেগের’ বিষয় এবং এটি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


গত ২৮ জুন ইসরায়েল সরকার ১৯১৫ থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যে অটোমান সাম্রাজ্যের আমলে আর্মেনীয়দের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেয়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, গাজা যুদ্ধকে ঘিরে তুরস্ক-ইসরায়েল সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করছে।


তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনে গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের সমালোচনা করে আসছে, যদিও ইসরায়েল সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।


আজারবাইজান একদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রাখলেও, অন্যদিকে তুরস্ক তার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত মিত্র। ফলে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে দেশটি প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছে।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, অতীতের বিতর্কিত ঘটনাকে এভাবে স্বীকৃতি দেওয়া সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে পুনর্মিলন বা পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর পরিবর্তে বিভাজন আরও গভীর করতে পারে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।


আর্মেনিয়ার দাবি, ১৯১৫-১৯১৭ সালের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ আর্মেনীয় পরিকল্পিতভাবে নিহত হন, যা একটি গণহত্যা। তবে তুরস্ক বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, সে সময় যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ ও সংঘাতের কারণে আর্মেনীয় ও তুর্কি—উভয় পক্ষের বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাই ঘটনাটিকে গণহত্যা বলা সঠিক নয়।


এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানিসহ বিশ্বের দুই ডজনেরও বেশি দেশ ওই ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে তুরস্কের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কের কারণে এতদিন ইসরায়েল এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেয়নি।


এদিকে, কারাবাখ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের পর আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া বর্তমানে উত্তেজনা কমিয়ে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।