সোমবার , ০৬ জুলাই ২০২৬
সোমবার , ০৬ জুলাই ২০২৬
হোমআইন ও আদালততিন শর্তে জামিন পেলেন ইসতি মেডিকেলের এমডি মোহাম্মদ ফয়সাল

তিন শর্তে জামিন পেলেন ইসতি মেডিকেলের এমডি মোহাম্মদ ফয়সাল

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
তিন শর্তে জামিন পেলেন ইসতি মেডিকেলের এমডি মোহাম্মদ ফয়সাল

বোনের মেয়েকে (ভাগ্নি) যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাগারে যাওয়ার পাঁচ দিন পর জামিন পেয়েছেন ইসতি মেডিকেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফয়সাল।


রোববার (৫ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন পাঁচ লাখ টাকার মুচলেকায় আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত জামিনের সঙ্গে তিনটি শর্ত আরোপ করেন—তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে, জামিনের অপব্যবহার করা যাবে না এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশে যাওয়া যাবে না।


প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগীর বাবা গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে ৬ মে উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান ফয়সাল। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হলে গত মঙ্গলবার তিনি সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিন আবেদন করেন।

সেদিন তার পক্ষে ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খানসহ কয়েকজন আইনজীবী শুনানি করেন। অন্যদিকে বাদীপক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলমসহ আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


পরবর্তীতে রোববার উভয় পক্ষের পুনরায় শুনানি শেষে আদালত পাঁচ লাখ টাকার মুচলেকায় তিন শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করেন।


মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ফয়সাল ভুক্তভোগীর আপন মামা। ২০২৫ সালের জুন মাসে বিভিন্ন সময়ে ঘুরতে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি ভাগ্নির সঙ্গে বাইরে যেতেন। একপর্যায়ে তাকে ধূমপানে উৎসাহিত করারও চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া, ২৪ জুন দুপুরে গুলশানে ইসতি মেডিকেলের অফিসে মধ্যাহ্নভোজের আমন্ত্রণ জানানোর পর রাতে গাড়িতে করে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার সময় গাড়ি চালানো শেখানোর কথা বলে ভুক্তভোগীকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেন এবং যৌন নিপীড়ন করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।


অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর ভুক্তভোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় তিনি দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখেন। পরে ১৭ এপ্রিল বড় বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে অভিযুক্তকে দেখে তিনি চিৎকার করে প্রতিক্রিয়া জানালে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি জানতে পারেন। এরপর ভুক্তভোগীর বাবা গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন।


উল্লেখ্য, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।