সোমবার , ০৬ জুলাই ২০২৬
সোমবার , ০৬ জুলাই ২০২৬
হোমআইন ও আদালতপঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল নিয়ে আপিল শুনানি মঙ্গলবারও, ‘পুরো সংশোধনী বাতিলের’ দাবি রিটকারীদের

পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল নিয়ে আপিল শুনানি মঙ্গলবারও, ‘পুরো সংশোধনী বাতিলের’ দাবি রিটকারীদের

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল নিয়ে আপিল শুনানি মঙ্গলবারও, ‘পুরো সংশোধনী বাতিলের’ দাবি রিটকারীদের

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা আপিলের শুনানি আগামী মঙ্গলবারও চলবে। প্রায় ১৪ মাস পর সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চে মামলাটির আংশিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।


শুনানিতে রিটকারীদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. শরীফ ভূইয়া দাবি করেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী যথাযথ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে করা হয়নি। তাই জনস্বার্থে পুরো সংশোধনীই বাতিল করা উচিত।


তবে তিনি বলেন, পুরো সংশোধনী বাতিলের ফলে যদি কোনো সাংবিধানিক বা প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়, সেসব বিষয়ে আদালত প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক নির্দেশনা দিতে পারেন।


সোমবার আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন মো. শরীফ ভূইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ অনীক রুশদ হকসহ অন্যান্য আইন কর্মকর্তা। মামলায় ইন্টারভেনার হিসেবে যুক্ত জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।


এর আগে মামলার শুনানি স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়ে শিশির মনির যুক্তি দিয়েছিলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল করা হলে সংবিধানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধানও বিলুপ্ত হতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এতে সংবিধানের বিভিন্ন সাংবিধানিক কাঠামো ও বিধানে জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


আইনজীবী শরীফ ভূইয়া সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আংশিকভাবে পুনর্বহালের নির্দেশ দিলেও বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


তিনি আরও জানান, আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি চলতি মাসের মাঝামাঝি অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তাই তার আগেই শুনানি শেষ করে রায় ঘোষণা হতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।


২০১১ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়। পাশাপাশি সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হয়। পরে এসব সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একাধিক রিট দায়ের করা হলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্ট আংশিক রায় দেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি বর্তমানে আপিল বিভাগে চলমান রয়েছে।