ববি বেগম হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির তিন দিনের রিমান্ড
নরসিংদীর রায়পুরার মেথিকান্দা রেলস্টেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ববি বেগম হত্যা ও অর্থ লুটের মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (১২ জুলাই) আসামিদের নরসিংদীর আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) দিলীপ চন্দ্র সরকার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক মেশকাতুল ইসলাম পাঁচ আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত শুক্রবার রায়পুরা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় যৌথ অভিযান চালিয়ে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও র্যাব-১১।
পরে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৫ বছর আগে বাকপ্রতিবন্ধী এক নারী ট্রেনে করে মেথিকান্দা রেলস্টেশনে এসে পৌঁছান। নিজের পরিচয় জানাতে না পারায় স্থানীয়রা তার নাম রাখেন ‘ববি বেগম’। এরপর থেকেই তিনি ওই নামেই পরিচিত ছিলেন।
স্টেশনের শৌচাগার ও প্ল্যাটফর্ম পরিষ্কার করে যাত্রীদের দেওয়া সামান্য অর্থে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। দীর্ঘদিনে সঞ্চয় করেছিলেন প্রায় ২০ হাজার টাকা।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই দুর্বৃত্তরা স্টেশনের একটি কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করে এবং তার জমানো অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৭ জুলাই নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুল্যান্সেই তার মৃত্যু হয়।
তদন্তে পরে জানা যায়, ববি বেগমের প্রকৃত নাম ওয়াহিদা বেগম। তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নাড়ুয়ামালা ইউনিয়নের শাখাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। স্বামী ও একমাত্র কন্যার মৃত্যুর পর পারিবারিক অভিমানে বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং দীর্ঘ ২৫ বছর পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না।
রোববার দুপুরে বগুড়া থেকে তার দুই বোন, এক ভাইসহ ১৪ জন স্বজন রায়পুরায় এসে তার কবর জিয়ারত করেন। পরে তারা মেথিকান্দা রেলস্টেশনে গিয়ে তার থাকার কক্ষ, ব্যবহৃত সামগ্রী ও কর্মস্থল পরিদর্শন করেন। দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে স্বজনরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।