পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিলের রায় আজ
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে দায়ের করা আপিলের রায় আজ ঘোষণা করবেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এর মাধ্যমে বহুল আলোচিত এই সাংবিধানিক মামলার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি হতে যাচ্ছে।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ টানা তিন দিনের শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। এই রায়ে স্পষ্ট হবে, উচ্চ আদালতের আগের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে নাকি পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত আসবে।
২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয় এবং একই বছরের ৩ জুলাই রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে এটি কার্যকর হয়।
পরবর্তীতে এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক আদালতের দ্বারস্থ হন। প্রাথমিক শুনানির পর উচ্চ আদালত রুল জারি করেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর দেওয়া রায়ে পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। সেই রায়ের ফলে সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হয় এবং নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের সাংবিধানিক পথ উন্মুক্ত হয়।
উচ্চ আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক পক্ষ আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। পরে সর্বোচ্চ আদালত আপিল গ্রহণ করলে নিয়মিত শুনানি শুরু হয়। মামলায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনও পক্ষভুক্ত হয়ে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
শুনানিতে রিটকারীদের আইনজীবী, বিভিন্ন পক্ষের আইনজীবী এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তারা তাদের যুক্তি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রের পক্ষে বলা হয়, নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগ—রাষ্ট্রের এই তিনটি অঙ্গ নিজ নিজ সাংবিধানিক সীমার মধ্যে স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং একে অপরের কাজে হস্তক্ষেপ করবে না।
রাষ্ট্রপক্ষ আরও যুক্তি দেয়, সংবিধান সংশোধন ও আইন প্রণয়নের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত। তাই এ বিষয়ে রায় দেওয়ার সময় আদালতের সাংবিধানিক ভারসাম্যের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
আজকের রায়ের মাধ্যমে দেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত এই মামলার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হবে।