জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা মামলায় ছাত্রী বর্ষাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। বুধবার (১৫ জুলাই) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা (১৯), বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান (১৯) এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান (২১)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বংশাল থানার এসআই মো. আশরাফ হোসেন সম্প্রতি ঢাকার আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় চার্জশিট জমা দেন। তদন্তে মাহিরকে মূল হামলাকারী, বর্ষাকে হত্যার পরিকল্পনাকারী এবং আয়লানকে সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চার্জশিটে ৫০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণ, ডিএনএ রিপোর্ট এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক আলামতের তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নুরবক্স লেনের একটি বাসায় ছাত্রী বর্ষাকে পড়াতে গেলে জোবায়েদ হোসাইন ছুরিকাঘাতে নিহত হন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাসার নিচতলায় হামলার শিকার হওয়ার পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে সিঁড়িতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরদিন নিহতের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বংশাল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রায় নয় মাস তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ।
তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডটি আকস্মিক ছিল না; বরং প্রায় এক মাস ধরে পরিকল্পনা, নজরদারি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সুযোগের অপেক্ষার পর এটি সংঘটিত হয়। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, বর্ষার সঙ্গে জোবায়েদ ও মাহির—উভয়ের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল এবং জোবায়েদের কাছে থাকা কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু জানান, চার্জশিটটি বর্তমানে প্রসিকিউশন বিভাগের জিআরও শাখায় পর্যালোচনাধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে এটি আদালতে উপস্থাপন করে আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, চার্জশিটে ডিএনএ প্রতিবেদনের সঙ্গে মাহিরের মিল এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া তার জবানবন্দিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।