বৃহস্পতিবার , ১৬ জুলাই ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ১৬ জুলাই ২০২৬
হোমআইন ও আদালতমেট্রো রেলের নিরাপত্তায় ৮ দফা জরুরি সুপারিশ, বাস্তবায়নে এক মাস সময়

মেট্রো রেলের নিরাপত্তায় ৮ দফা জরুরি সুপারিশ, বাস্তবায়নে এক মাস সময়

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
মেট্রো রেলের নিরাপত্তায় ৮ দফা জরুরি সুপারিশ, বাস্তবায়নে এক মাস সময়

মেট্রো রেলের নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা এড়াতে আট দফা জরুরি সুপারিশ করেছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটি। সুপারিশগুলো ৩০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।


গত সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতে দাখিল করা হয়। শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক মাসের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি সুপারিশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।


রিটকারী পক্ষের আইনজীবী তানভীর আহমেদ জানান, প্রতিবেদনে স্বল্পমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি এবং পদ্ধতিগত—এই তিন ধরনের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি সুপারিশগুলো ৩০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে।


### তদন্ত কমিটির প্রধান সুপারিশ


* ক্ষতিগ্রস্ত বিয়ারিং প্যাড দ্রুত পরিবর্তন করা।

* পিলার ও উড়ালপথের বিমে দেখা দেওয়া ফাটলের কারণ শনাক্ত করে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে মেরামত করা।

* ঝুঁকিপূর্ণ পিলার নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা।

* বর্ষার আগে স্টেশন ও বৈদ্যুতিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পানি প্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

* পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখা এবং নিয়মিত পরিষ্কার করা।

* রেললাইন পরিদর্শনের জন্য আধুনিক পরীক্ষণ যন্ত্র সংগ্রহ করা।

* চাকা বা অন্যান্য অংশে গুরুতর ত্রুটি পাওয়া ট্রেন মেরামত না হওয়া পর্যন্ত চলাচল বন্ধ রাখা।

* বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি দ্রুত সমাধান এবং জরুরি বিদ্যুৎব্যবস্থা পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখা।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঠিকাদারের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতে হবে।


উল্লেখ্য, গত বছরের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রো রেলের একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে পথচারী আবুল কালামের মৃত্যু হয়। এর আগের বছরও একই ধরনের একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। এসব ঘটনার পর মেট্রো রেলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হলে বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে পৃথক রিট দায়ের করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।