সোমবার , ২০ জুলাই ২০২৬
সোমবার , ২০ জুলাই ২০২৬
হোমরাজনীতিস্থানীয় নির্বাচন ঘিরে জামায়াতের জোটে অস্বস্তি, একক প্রার্থী দেওয়ায় ক্ষুব্ধ শরিকরা

স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে জামায়াতের জোটে অস্বস্তি, একক প্রার্থী দেওয়ায় ক্ষুব্ধ শরিকরা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে জামায়াতের জোটে অস্বস্তি, একক প্রার্থী দেওয়ায় ক্ষুব্ধ শরিকরা

জাতীয় নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে মতপার্থক্য ও অসন্তোষ ক্রমেই প্রকাশ্যে আসছে। বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তে জোটের কয়েকটি শরিক দল অসন্তুষ্ট বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।


একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোটভুক্ত কয়েকটি দলের অভিযোগ—জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মতো ইস্যুতে শরিকদের সম্পৃক্ত রাখা হলেও নির্বাচনী কৌশল ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তাদের মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।


ইতোমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন না পাওয়া খেলাফত আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে খেলাফত মজলিসও আপাতত ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।


খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের বলেন, সংসদে একসঙ্গে থাকলেও আপাতত জোটের কর্মসূচিতে তারা থাকছেন না। তবে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।


জোট-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বাংলাদেশ খেলাফত ও এনসিপি ছাড়া অন্য শরিক দলগুলো মনে করছে, জোটের কর্মসূচি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন সমাবেশে নেতৃত্ব ও বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে।


এদিকে, হেফাজতে ইসলামের সাম্প্রতিক অবস্থানও জোট রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা কওমি ধারার দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে আদর্শগত কারণে জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী বলেছেন, সংগঠনটি তার অরাজনৈতিক অবস্থান থেকেই কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের পরামর্শ দিয়েছে।


অন্যদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দেশের সব সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জামায়াত। এতে শরিক দলগুলোর অনেকেই জোটগত সমন্বয়ের অভাবের অভিযোগ তুলেছেন। যদিও এনসিপি নিজেও বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রস্তুত করেছে, তবে দলটি স্থানীয় নির্বাচনেও জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে রয়েছে।


এসব অভিযোগের বিষয়ে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জোটে বড় ধরনের কোনো সংকট নেই। তার ভাষায়, ‘সামান্য মান-অভিমান সব জোটেই থাকে। আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে।’


এদিকে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, অতীতেও বিএনপির সঙ্গে জোটে থাকাকালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াত এককভাবে অংশ নিয়েছে। তার মতে, জাতীয় নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন হওয়ায় স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়াই দলটির নীতি।