শাপলা চত্বর মামলা ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’, লতিফ সিদ্দিকীকে আসামি করায় প্রতিবাদ কাদের সিদ্দিকীর
মানবতাবিরোধী অপরাধের শাপলা চত্বর মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর পর মামলাটিকে ‘সম্পূর্ণ অচল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেছেন তার ছোট ভাই ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে বৃহস্পতিবার তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজির করা হলে প্রসিকিউশনের আবেদনের পর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতের এ আদেশের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কাদের সিদ্দিকী। তিনি দাবি করেন, তার ভাইকে অন্যায়ভাবে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, মামলার অভিযোগ তার কাছে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন মনে হয়েছে এবং শাপলা চত্বরের ঘটনার সঙ্গে লতিফ সিদ্দিকীর সম্পৃক্ততার কোনো যৌক্তিকতা তিনি দেখেন না। তার ভাষ্য, সে সময় লতিফ সিদ্দিকী পাটমন্ত্রী ছিলেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ‘কিচেন ক্যাবিনেট’-এর সদস্যও ছিলেন না।
কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, যদি তিনি এমন কোনো অপরাধে দণ্ডিত হন, যা তিনি করেননি, এমনকি মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়, তাহলেও তারা তা মেনে নেবেন।
লতিফ সিদ্দিকীকে হাতকড়া পরিয়ে কারাগারে নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিবি কার্যালয়ে তার সঙ্গে ভালো আচরণ করা হলেও ট্রাইব্যুনালে ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। তবে হাতকড়া পরানো নিয়ে তিনি বিশেষ আপত্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গত ২৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করে। একই সঙ্গে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ওই পরোয়ানাভুক্তদের একজন ছিলেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।