মঙ্গলবার , ০৪ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার , ০৪ আগস্ট ২০২৬
হোমবিশ্বইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সুর নরম কেন? যুদ্ধ নাকি কূটনীতির নতুন সমীকরণ

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সুর নরম কেন? যুদ্ধ নাকি কূটনীতির নতুন সমীকরণ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সুর নরম কেন? যুদ্ধ নাকি কূটনীতির নতুন সমীকরণ

মাত্র কয়েক দিন আগেও ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেনাবাহিনী, যুদ্ধজাহাজ ও বিমান প্রস্তুত থাকার কথাও জানানো হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, দ্রুত একটি সমঝোতা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেবে না।


এই অবস্থান পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি কূটনৈতিক অগ্রগতির ফল, নাকি যুদ্ধের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও সামরিক ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত?


সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ এবং ইরান সংঘাত নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে এবং একটি সম্ভাব্য চুক্তির ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে এখনো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক সমর্থন পাওয়া যায়নি।


এদিকে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং হুতিদের হামলার আশঙ্কায় লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচলেও প্রভাব পড়ছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।


বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন হয়। দীর্ঘ সময় এই রুটে অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে।


সামরিক দিক থেকেও নতুন করে বড় সংঘাতে জড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কিছু সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করলে অতিরিক্ত সামরিক ও আর্থিক ব্যয় বহন করতে হতে পারে।


আঞ্চলিক মিত্রদের কূটনৈতিক তৎপরতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে উত্তেজনা কমিয়ে সংলাপের পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পাকিস্তান, কাতার, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী শিহাবির মতে, সৌদি আরব মনে করে সংঘাত আরও বাড়ানো কার্যকর হবে না। বরং সীমিত চাপ বজায় রেখে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান খোঁজাই বেশি বাস্তবসম্মত।


অন্যদিকে ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে তার জবাব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটি।


সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। কারণ, চুক্তির কোনো আনুষ্ঠানিক খসড়া বা বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অনেক বিশ্লেষকের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশলও হতে পারে।