ইরানের তেলঘাঁটি খার্গ দ্বীপে হামলার দাবি, প্রমাণ নিয়ে সংশয়
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে ভয়াবহ হামলা চলছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর এই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। খবর রয়টার্সের।
রোববার (৩০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘খার্গ দ্বীপকে টুকরো টুকরো করে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে!’ পোস্টের সঙ্গে বিস্ফোরণের একটি ভিডিওও প্রকাশ করেন তিনি।
তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওটি সম্ভবত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি অথবা কৃত্রিমভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে এটিকে খার্গ দ্বীপে হামলার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। একই সময়ে ট্রাম্পের দাবির বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের জন্য খার্গ দ্বীপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল রপ্তানি কেন্দ্র। যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের টার্মিনালের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। ফলে সেখানকার তেল অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলা হলে ইরানের তেল রপ্তানি ও অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হতে পারে।
ট্রাম্পের দাবির আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনায় হামলা চালায়। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে ওই স্থাপনাগুলো ব্যবহার করছিল।
এর জবাবে জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে বলে জানা গেছে।
সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আর্থিক যোগাযোগ রয়েছে—এমন ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতি সপ্তাহে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
তবে খার্গ দ্বীপে নতুন করে বড় ধরনের হামলা হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ট্রাম্পের দাবি এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।