মঙ্গলবার , ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার , ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমবিশ্বথাইল্যান্ডে মার্কিন রণতরী, যৌন শোষণ ঠেকাতে পুলিশের বিশেষ অভিযান

থাইল্যান্ডে মার্কিন রণতরী, যৌন শোষণ ঠেকাতে পুলিশের বিশেষ অভিযান

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
থাইল্যান্ডে মার্কিন রণতরী, যৌন শোষণ ঠেকাতে পুলিশের বিশেষ অভিযান

দীর্ঘ সামরিক অভিযান ও টানা ২০০ দিনের বেশি সমুদ্রযাত্রা শেষে বিশ্রামের জন্য থাইল্যান্ডের পর্যটন নগরী পাতায়ার কাছে নোঙর করতে যাচ্ছে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। প্রায় ৫ হাজার মার্কিন নৌসেনা ও মেরিন সদস্যের আগমনকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে অর্থনৈতিক আশার সঞ্চার হলেও যৌন শোষণ ও দেহব্যবসা ঠেকাতে আগেই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার নিকটবর্তী লায়েম চাবাং বন্দরে দুটি সহযোগী যুদ্ধজাহাজসহ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর পৌঁছানোর কথা রয়েছে। মার্কিন সেনাদের আগমনকে কেন্দ্র করে পাতায়ার সৈকত ও নাইটলাইফ এলাকাগুলোতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।


সপ্তাহান্তে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে ৪০ থেকে ৫০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পাতায়া পুলিশের প্রধান আনেক শ্রাথোংইউ বলেন, প্রকাশ্য স্থানে পরিচালিত এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হলেও পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।


থাইল্যান্ডে দেহব্যবসা আইনত নিষিদ্ধ। তবে ব্যাংকক ও পাতায়ার মতো পর্যটনকেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যেই চলে আসছে।


গত বছরের নভেম্বরে সান ডিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’কে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের কারণে জাহাজটির সেনাসদস্যদের মানসিক চাপ ও মনোবল নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।


চলতি মাসে প্রকাশিত দুটি মার্কিন সামরিক সাময়িকীর প্রতিবেদনে জাহাজটির সেনাদের মনোবল কমে যাওয়ার কথা উঠে এসেছে। সেখানে গুরুতর মানসিক সংকটের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।


এদিকে, মার্কিন সেনাদের আগমনকে ঘিরে পাতায়ার স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক সুফলের প্রত্যাশা করছেন। পাতায়ার মেয়র পোরামাসে এনগামপিচেসের মতে, প্রতিজন মার্কিন সেনা দৈনিক প্রায় ১ হাজার থেকে ৩ হাজার বাথ খরচ করতে পারেন। এতে স্বল্পমেয়াদে স্থানীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য গতি আসতে পারে।


তবে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক ও সেনাসদস্যের আগমন ঘিরে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ব্যাংকক ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক পিপাতপং ফাকফারে সতর্ক করে বলেছেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের একসঙ্গে আগমনে যৌন শোষণ ও যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি মার্কিন সেনাদের মানসিক চাপ ও বিষণ্নতার খবরও নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।