সন্ত্রাসবাদ কারও ‘কৌশলগত সম্পদ’ হতে পারে না: মোদি
সন্ত্রাসবাদকে রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সব ধরনের ‘দ্বৈত নীতি’ পরিহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে মোদি এসব কথা বলেন।
মোদি বলেন, সন্ত্রাসবাদ বর্তমানে গোটা মানবতার জন্য বড় হুমকি। এটি কখনোই কোনো দেশের জন্য ‘কৌশলগত সম্পদ’ হতে পারে না।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংসহ এসসিওভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের অর্থায়ন, নিয়োগ, উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করা এবং নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার পুরো নেটওয়ার্ককে সম্মিলিতভাবে ভেঙে ফেলতে হবে।
বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন সংঘাত ও উত্তেজনার প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেন, কোনো সংঘাত বা সংকটের সমাধান যুদ্ধক্ষেত্রে সম্ভব নয়। সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমেই শান্তিপূর্ণভাবে সংকটের সমাধান করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সংঘাতের কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে উন্নয়নশীল ও ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর দেশগুলোর ওপর।
চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) প্রকল্পের পরোক্ষ সমালোচনা করে মোদি বলেন, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে কোনো প্রকল্পের নামে অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করা যাবে না।
এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের শেষে গৃহীত যৌথ ‘বিশকেক ঘোষণাপত্রে’ও সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ঘোষণাপত্রে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর সামরিক হামলার নিন্দা এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাম্প্রতিক মৃত্যুতে শোক জানানো হয়।
সদস্য রাষ্ট্রগুলো একমত হয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো ফিলিস্তিন সংকটের ন্যায়সংগত সমাধান এবং সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা।