শুক্রবার , ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার , ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমসারা দেশনড়াইলে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় ৩ শিক্ষক আটক

নড়াইলে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় ৩ শিক্ষক আটক

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
নড়াইলে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় ৩ শিক্ষক আটক

নড়াইলে মাদরাসার আবাসিক ছাত্রাবাসে শিক্ষকের মারধরের অভিযোগের পর অসুস্থ হয়ে সৈয়দ সুলায়মান ইসলাম (১২) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদরাসার তিন শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।


মৃত সুলায়মান সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের সৈয়দ ইকরাম আলীর ছেলে। সে সদর উপজেলার আউড়িয়া গ্রামের মারকাযুল কুরআন নড়াইলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিল।


আটক তিন শিক্ষক হলেন ইউসুফ হায়দার (৩৭), হাসিবুর রহমান (৩০) ও ফাহাদ শেখ (৩২)। তারা সবাই ওই মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোররাতে মাদরাসার আবাসিক ছাত্রাবাসে সুলায়মান অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে মাদরাসার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা সকালে তার পরিবারকে মোবাইল ফোনে অসুস্থতার বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা মাদরাসায় গিয়ে সুলায়মানের অবস্থা গুরুতর দেখতে পান।


পরে তাকে দ্রুত নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোরে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।


সুলায়মানের বাবা সৈয়দ ইকরাম আলী অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে রাতে মারধর করা হয়েছিল। তিনি বলেন, আগের দিন সন্ধ্যায় ছেলের সঙ্গে দেখা করে একসঙ্গে নামাজ পড়েছেন। তখন তার কোনো অসুস্থতা ছিল না। রাতে অসুস্থ হওয়ার পরও পরিবারকে সময়মতো জানানো হয়নি এবং তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নাজমুস সায়াৎ আল মামুন। তিনি বলেন, রাত ৩টার দিকে সুলায়মান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। মাদরাসার কেউ এ ঘটনায় জড়িত নয়। তবে কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, ঘটনায় শিক্ষক ইউসুফ হায়দার, হাসিবুর রহমান ও ফাহাদ শেখকে আটক করা হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।