ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেড়েছে ডাকাতি, আতঙ্কে যাত্রী-চালকরা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেড়েছে ডাকাতি, আতঙ্কে যাত্রী-চালকরা
কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে। মহাসড়কের অন্তত ছয়টি এলাকায় নিয়মিত ডাকাতির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এতে রাতের যাত্রায় আতঙ্কে রয়েছেন যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত ১০টার পর মহাসড়ক ও সংযোগ সড়কের নির্জন অংশগুলোতে সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সময় সড়কে গাছের গুঁড়ি, লোহার রড, ইট-পাথরসহ নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে যানবাহন থামিয়ে দেওয়া হয়। আবার কখনো যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি অনুসরণ করে নির্জন স্থানে নিয়ে লুটপাট করা হয়।
ডাকাতির এসব ঘটনায় যাত্রীদের টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ কারণে রাতের বেলায় দূরপাল্লার যাত্রায় অনেকেই আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর, ইলিয়টগঞ্জ ও গোমতা, চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া এবং সদর দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির ঘটনা বেশি ঘটছে। ডাকাতচক্রের প্রধান টার্গেট হিসেবে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও প্রবাসফেরত ব্যক্তিদের কথা জানিয়েছেন তারা।
সূত্রের দাবি, দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতচক্রের সদস্যরা অবস্থান করে। তাদের অনেকে বিভিন্ন স্টেশন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছেন। বিশেষ করে ইলিয়টগঞ্জ, মাধাইয়া, চান্দিনা, নিমসার, ময়নামতি ও পদুয়ার বাজার এলাকায় অর্ধশতাধিক ডাকাত সদস্য বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, রাতের আঁধারে ভাড়া বাসাগুলোতে ডাকাতচক্রের সদস্যরা গোপন বৈঠক করে। পুলিশি নজরদারি এড়াতে তারা স্থানীয় মোবাইল সিমের পরিবর্তে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ এবং ডাকাতির পরিকল্পনা করে তারা।
ডাকাতি প্রতিরোধে মহাসড়কে টহল জোরদারের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন পরিবহনসংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে এসব এলাকায় পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে ডাকাতচক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার গণমাধ্যমকে বলেন, ডাকাতি প্রতিরোধে মহাসড়কে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। ডাকাতচক্রের সদস্যদের পাওয়া গেলে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
সূত্র: কালের কণ্ঠ