সাবেক ইসরায়েলি সেনাকে বিজ্ঞাপনে, বয়কটের মুখে অ্যাডিডাস
গাজায় ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের মধ্যে সাবেক এক ইসরায়েলি সেনাকে ব্যবহার করে জুতার বিজ্ঞাপন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পণ্য বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন মানবাধিকারকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের অনেকে।
আনাদুলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাডিডাসের ‘সিঙ্গেল-শু-সার্ভিস’ নামের একটি প্রচারণায় সাবেক ইসরায়েলি সেনা শালেভ বিটনকে যুক্ত করা হয়েছে। এই সেবার আওতায় বিভিন্ন কারণে একটি পা হারানো ব্যক্তিরা জোড়ার পরিবর্তে একটি জুতা কেনার সুযোগ পান।
তবে গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ওই প্রচারণায় সাবেক ইসরায়েলি সেনাকে যুক্ত করায় সমালোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, গাজায় সংঘাতের কারণে যখন বিপুলসংখ্যক মানুষ অঙ্গহানি ও গুরুতর আঘাতের শিকার হচ্ছেন, তখন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নেওয়া এমন উদ্যোগের প্রচারণায় কেন একজন সাবেক ইসরায়েলি সেনাকে বেছে নেওয়া হলো।
বিটন ২০২১ সালের মে মাসে গাজার কাছে সংঘর্ষে আহত হয়ে বাম পা হারান। অ্যাডিডাসের প্রচারণায় তার অন্তর্ভুক্তি গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অঙ্গহানি ও প্রতিবন্ধিতার বিষয়টি প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে উপস্থাপন করছে, তা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০২৬ সালের মে মাসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় সংঘাতের কারণে ৫ হাজারের বেশি মানুষ হাত-পা হারিয়েছেন। একই সময়ে ২২ হাজারের বেশি মানুষ গুরুতর অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন।
এই সংঘাতে শিশুরাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনিসেফের সর্বশেষ ‘স্টেট অব প্যালেস্টাইন’ আপিল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১১ হাজারের বেশি শিশু এমন গুরুতর আঘাত পেয়েছে, যা তাদের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে।
এর আগেও গাজায় শিশুদের অঙ্গহানির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সিএনএন, সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইউনিসেফের তথ্যের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছিল, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় প্রতিদিন গড়ে ১০টির বেশি শিশু একটি বা দুটি পা হারিয়েছে। ওই সময়ের হিসাবে, ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় এক হাজার শিশু একটি বা দুটি পা হারিয়েছিল।
ডব্লিউএইচও আরও জানিয়েছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত গাজায় অঙ্গহানি হওয়া ২ হাজার ২৭৭ জনের মূল্যায়ন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মাত্র ৫০২ জন কৃত্রিম অঙ্গ পেয়েছেন। সংস্থাটির মতে, গাজায় পুনর্বাসনসেবা ও সহায়ক চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।