মঙ্গলবার , ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার , ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমবিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে জাহাজের জ্বালানি সংকট, বাড়ছে পরিবহন খরচ

যুদ্ধের প্রভাবে জাহাজের জ্বালানি সংকট, বাড়ছে পরিবহন খরচ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
যুদ্ধের প্রভাবে জাহাজের জ্বালানি সংকট, বাড়ছে পরিবহন খরচ

বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পণ্য সমুদ্রপথে পরিবহন করা হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের চলমান সংঘাতের প্রভাবে জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারে ব্যবহৃত হেভি ফুয়েল অয়েল বা বানকার ফুয়েলের সরবরাহ কমে গেছে। একই সঙ্গে বাড়ছে এর দাম। এতে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফুয়েল অয়েল রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে গড়ে প্রতিদিন রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৪৭ হাজার ব্যারেল।


বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি তেল শোধনাগারগুলোও জাহাজের জ্বালানির পরিবর্তে তুলনামূলক বেশি লাভজনক ডিজেল, পেট্রোল ও জেট ফুয়েল উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে একদিকে জ্বালানির সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে বাড়ছে চাহিদা ও দাম।


এই সংকটের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধের কারণে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।


এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে হুথিদের হামলার কারণে তৈরি দীর্ঘদিনের জাহাজ চলাচল সংকট। এসব কারণে জাহাজ পরিচালনা ও পণ্য পরিবহনে বাড়তি ঝুঁকি ও ব্যয় তৈরি হয়েছে।


এদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বেশ কয়েকটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটি থেকেও ফুয়েল অয়েল রপ্তানি কমেছে।


বিশ্বের সবচেয়ে বড় বানকার ফুয়েল বাণিজ্যকেন্দ্র সিঙ্গাপুর। দেশটি নিজস্ব ব্যবহারের প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল ফুয়েল অয়েলের অর্ধেকের বেশি আমদানি করে। যুদ্ধ শুরুর পর সেখানে ভিএলএসএফও বা কম সালফারযুক্ত জাহাজের জ্বালানির দাম প্রায় ৭৬ শতাংশ বেড়েছে। ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি মেট্রিক টন ভিএলএসএফওর দাম বেড়ে প্রায় ৮২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।


জাহাজের জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব শুধু শিপিং কোম্পানির ব্যয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। জ্বালানি ব্যয় বাড়লে পণ্য পরিবহনের খরচও বাড়বে। সেই বাড়তি ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত উৎপাদক ও ভোক্তার ওপর পড়তে পারে।


ফলে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল থেকে দূরে থাকা দেশগুলোর বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত শেষ না হলে জাহাজের জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনাও কম। কারণ বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত তেল পরিশোধন সক্ষমতা বর্তমানে খুবই সীমিত।