মঙ্গলবার , ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার , ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমবিশ্বরাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সীমান্তে প্রথম সড়ক সেতু চালু

রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সীমান্তে প্রথম সড়ক সেতু চালু

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সীমান্তে প্রথম সড়ক সেতু চালু

রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি সড়ক যোগাযোগ চালু হয়েছে। তুমেন নদীর ওপর নির্মিত নতুন সেতুটি দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন আরও সহজ হবে। তবে বাণিজ্য ও পর্যটনের পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।


উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সেতুটি মূলত যাতায়াত, পর্যটন ও বাণিজ্যের কাজে ব্যবহারের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে।


রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন সেতুটিকে দুই দেশের বন্ধুত্বের ‘নতুন প্রতীক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাক থায়ে সং এটিকে ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’ বলে অভিহিত করেছেন।


রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, নতুন সেতু দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩০০টি যানবাহন এবং ২ হাজার ৩২৩ জন মানুষ চলাচল করতে পারবেন।


তবে সেতুটি নিয়ে সামরিক ব্যবহারের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনভিত্তিক ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা গবেষণা দল ট্রুথ হাউন্ডসের দাবি, এর ব্যবহার শুধু বাণিজ্য ও যাত্রী পরিবহনে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তার জন্য এটি একটি গোপন সামরিক সরবরাহপথ হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে বলে সংস্থাটি আশঙ্কা করছে।


ট্রুথ হাউন্ডসের মতে, ২০২৪ সালে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তির প্রেক্ষাপটে নতুন এই যোগাযোগপথ দিয়ে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সদস্য, নির্মাণশ্রমিক ও জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সরাসরি রাশিয়ায় পাঠানো সহজ হতে পারে। একইভাবে রাশিয়া থেকে প্রযুক্তি ও বিভিন্ন ধরনের সম্পদ উত্তর কোরিয়ায় পাঠানোর সুযোগও বাড়বে।


ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন এর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, দুই দেশের যেকোনো একটি ‘আগ্রাসনের’ শিকার হলে অপর দেশ সহযোগিতা করবে।


নতুন সড়ক যোগাযোগের তাৎক্ষণিক প্রভাব রাশিয়ার কাছে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।


দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার গবেষকদের অনুমান, জাহাজের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া এরই মধ্যে রাশিয়াকে ৭ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও কামানের গোলা সরবরাহ করেছে। এ ছাড়া প্রায় ১১ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা বর্তমানে রাশিয়ায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।


ট্রুথ হাউন্ডসের মতে, নতুন সেতু চালু হওয়ায় সামরিক জনবল ও সরঞ্জাম পরিবহনের এই কার্যক্রম আরও সহজ হতে পারে।


অন্যদিকে, রুশ প্রধানমন্ত্রী মিশুস্তিন বলেছেন, নতুন সেতুটি দুই দেশের বাণিজ্য, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাড়াতে ‘শক্তিশালী গতি’ তৈরি করবে। ভিডিও সংযোগের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তিনি মস্কো-পিয়ংইয়ং সম্পর্ক ‘অভূতপূর্ব উচ্চতায়’ পৌঁছেছে বলেও মন্তব্য করেন।