মঙ্গলবার , ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার , ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমরাজনীতিআসিফ উত্তরে, নাসীরুদ্দীন দক্ষিণে:কৌশল বদলাচ্ছে এনসিপি?

আসিফ উত্তরে, নাসীরুদ্দীন দক্ষিণে:কৌশল বদলাচ্ছে এনসিপি?

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
আসিফ উত্তরে, নাসীরুদ্দীন দক্ষিণে:কৌশল বদলাচ্ছে এনসিপি?

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই শীর্ষ নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাদের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে দলটির কৌশল পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির এক জ্যেষ্ঠ নেতা।


অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ভোটার ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আফতাবনগর এলাকার ভোটার হয়েছেন।


অন্যদিকে, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ডিএনসিসির উত্তরা এলাকার ভোটার থেকে এখন ডিএসসিসির শাহবাগ এলাকার ভোটার হয়েছেন।


ভোটার এলাকা পরিবর্তনের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে, আসন্ন সিটি নির্বাচনে তাদের প্রার্থিতার ক্ষেত্রেও কি পরিবর্তন আনছে এনসিপি?


দলটির আহ্বায়ক কমিটির জ্যেষ্ঠ এক নেতা জানিয়েছেন, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে দলটি তাদের কৌশল পরিবর্তন করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদকে ঢাকা দক্ষিণের পরিবর্তে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ কারণেই তিনি ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন বলে জানান ওই নেতা।


এর আগে ডিএনসিসি নির্বাচনে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবকে প্রার্থী করার কথা জানিয়েছিল দলটি।


এটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দ্বিতীয়বারের মতো আসিফ মাহমুদের ভোটার এলাকা পরিবর্তন। এর আগে তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার গ্রামের বাড়ির ভোটার ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে তিনি ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হন।


সে সময় আসিফ মাহমুদ জানিয়েছিলেন, ঢাকা থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা থেকেই ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি। পরে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।


### দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন, মুখোমুখি সাদিক?


এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করার পরিকল্পনা করছে এনসিপি। দলটির ওই জ্যেষ্ঠ নেতার ভাষ্য, এখন পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্তই রয়েছে।


নাসীরুদ্দীন বর্তমানে যে এলাকার ভোটার হয়েছেন, সেটি ঢাকা-৮ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিএনপির মির্জা আব্বাসের কাছে পরাজিত হন।


এর আগে নাসীরুদ্দীনকে ঢাকা-১৮ আসন থেকে প্রার্থী করার গুঞ্জনও ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ওই আসনে এনসিপির প্রার্থী হন আরিফুল ইসলাম আদিব।


ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামী সাবেক ছাত্রশিবির নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এরপর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে সাদিক কায়েম ও আসিফ মাহমুদের সম্ভাব্য মুখোমুখি লড়াই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।


তবে আসিফকে উত্তর সিটিতে সরিয়ে নাসীরুদ্দীনকে দক্ষিণে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হলে সেই সমীকরণ বদলে যাবে। এনসিপির ওই নেতা মনে করছেন, নাসীরুদ্দীনকে প্রার্থী করলে দক্ষিণে দলটি তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকতে পারে। একই সঙ্গে সাদিক কায়েম শেষ পর্যন্ত নাসীরুদ্দীনের বিপক্ষে প্রার্থী হবেন কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে বলে জানান তিনি।


### ঢাকার দুই সিটে ছাড় নয়


এনসিপির দলীয় সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আপাতত এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা জোট হলেও ঢাকার দুই সিটে ছাড় দেওয়ার বিষয়ে অনাগ্রহী দলটির নেতৃত্ব।


রাজধানীতে নিজেদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—দুই সিটি করপোরেশনেই নিজেদের প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে এনসিপি। ফলে আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা পরিবর্তনকে ঢাকার সিটি নির্বাচন ঘিরে দলটির নতুন কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।