বুধবার , ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার , ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোমসারা দেশ২৬ বছর আগের মামলায় ১০৪ বছরের বৃদ্ধকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ

২৬ বছর আগের মামলায় ১০৪ বছরের বৃদ্ধকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
২৬ বছর আগের মামলায় ১০৪ বছরের বৃদ্ধকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ

কিশোরগঞ্জে ২৬ বছর আগের ডাকাতি ও দ্বৈত হত্যা মামলায় উচ্চ আদালতের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে কারাগারে যেতে হলো ১০৪ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদকে। আপিলের শর্তে তাঁর করা জামিন আবেদন নাকচ করে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।


ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন নুর মোহাম্মদ। তাঁর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ।


আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান জানান, অসুস্থতার কারণে নিজ খরচে পরিবহনের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন নুর মোহাম্মদ। তবে আদালত সেই আবেদনও গ্রহণ করেননি।


আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ শুনানিতে বলেন, নুর মোহাম্মদের বয়স ১০৪ বছর। তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না এবং নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করেন। বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ কারণে আপিলের শর্তে তাঁকে জামিন দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।


তবে শুনানি শেষে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় দোকান মালিক মো. ফেরদৌসের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নামে দুজনকে হত্যা করা হয়। ডাকাতরা দোকানের সিন্দুক ভেঙে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায়।


এ ঘটনায় ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন কিশোরগঞ্জ থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক আনোয়ার হোসেন। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলাটি বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। বিচার চলাকালে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।


২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ আলম, মইন উদ্দিন ওরফে মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।


অন্যদিকে জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁদের আরও এক বছর কারাদণ্ড ভোগের আদেশ দেওয়া হয়। মামলার বিচার চলাকালীন হারিছ মিয়া নামে এক আসামি মারা যান।


পরে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অন্য আসামিদের সাজা বিভিন্ন মেয়াদে কমানো হয়। নুর মোহাম্মদের মৃত্যুদণ্ডও কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।


মামলার নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, নুর মোহাম্মদ এর আগে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি পলাতক হন। মামলার রায় ঘোষণার সময়ও তিনি পলাতক ছিলেন।