নড়িয়ায় জাল দলিলে জমি বিক্রির চেষ্টা, ৩ প্রতারক আটক
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় জাল দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রির চেষ্টা করার সময় প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নড়িয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে চূড়ান্ত দলিল রেজিস্ট্রির সময় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইকরকান্দি গ্রামের ইয়াসমিন বেগম এবং তার দুই সহোদর ভাই ইকরাম সরদার ও সুরুজ সরদার।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একটি জাল দলিলের ভিত্তিতে ভূমি অফিস থেকে নামজারি ও খাজনা খারিজ সম্পন্ন করে জমিটি বিক্রির উদ্যোগ নেন ইয়াসমিন বেগম ও তার দুই ভাই। নড়িয়ার বাসিন্দা রতন সরদার জমিটি কেনার বিষয়ে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেন এবং অগ্রিম হিসেবে ব্যাংকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ২২ লাখ ৬০ হাজার টাকা প্রদান করেন।
টাকা দেওয়ার আগে স্থানীয় ভূমি অফিস ও সংশ্লিষ্ট দলিল লেখকদের মাধ্যমে কাগজপত্র যাচাই করা হলে সেগুলো সঠিক বলে জানানো হয়। এরপর বুধবার বিকেলে চূড়ান্ত দলিল রেজিস্ট্রির জন্য সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গেলে কর্মচারীরা কাগজপত্র পুনরায় যাচাই করেন।
এ সময় নামজারির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত মূল দলিলটি সম্পূর্ণ জাল বলে শনাক্ত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ইয়াসমিন বেগম ও তার দুই সহযোগীকে আটক করেন এবং পুলিশে খবর দেন।
ভুক্তভোগী রতন সরদার বলেন, দলিল লেখক ও ভেন্ডাররা কাগজপত্র সঠিক বলে নিশ্চিত করার পর তিনি ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা দেন। পরে রেজিস্ট্রির সময় জানতে পারেন, পুরো নামজারিই জাল দলিলের ওপর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কোনো অসাধু চক্র থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান তিনি।
নড়িয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার তাহমিদ তিশাদ নিলয় বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের সময় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ার পর তিনজনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সরকারি কাজে জালিয়াতি ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, ভুক্তভোগী রতন সরদার বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেছেন। বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, জালিয়াতির সঙ্গে ভূমি অফিস বা দলিল লেখকদের কোনো চক্র জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।