আন্তর্জাতিক এমিতে মনোনয়ন পেল ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন ও সেই সময়ের ৩৬ দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নির্মিত আল জাজিরা ইংলিশের অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্র ‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’ ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডসে মনোনয়ন পেয়েছে।
আল জাজিরা ইনভেস্টিগেটসের এই প্রামাণ্যচিত্রটি ‘কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স’ বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে। এ বিভাগে এ বছর মোট চারটি প্রযোজনা মনোনীত হয়েছে। অন্য তিনটি হলো ফ্রান্সের ‘আর্টে রিপোর্টাজ: মাই ফাদারস হেয়ার’, যুক্তরাজ্যের ‘এক্সপোজার: ব্রেকিং র্যাঙ্কস: ইনসাইড ইসরায়েলস ওয়ার’ এবং ব্রাজিলের ‘প্রফিসাও রিপোর্টার: ফেমিনিস’।
প্রামাণ্যচিত্রটির মনোনয়নের খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। তিনি এই প্রামাণ্যচিত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
জুলকারনাইন সায়ের বলেন, এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের মানুষের। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সেই ৩৬ দিন যারা নিজেদের জীবন দিয়ে পার করেছেন—শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি এ সম্মান উৎসর্গ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই সময়ে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদেরও স্মরণ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অনেক মানুষ ব্যক্তিগত ঝুঁকি নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ও সাক্ষ্য তুলে ধরেছেন। তাদের সাহস ও আস্থার কারণেই প্রামাণ্যচিত্রটির গল্প আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছেছে।
‘হাসিনা: ৩৬ ডেজ ইন জুলাই’তে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সময়কার ঘটনাপ্রবাহ এবং তৎকালীন সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনুসন্ধান তুলে ধরা হয়েছে। প্রামাণ্যচিত্রটিতে গোপনে ধারণ করা অডিও, যোগাযোগের তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ব্যবহার করা হয়েছে।
জুলকারনাইন সায়েরের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের কোনো গল্পের আন্তর্জাতিক এমিতে পৌঁছানোর ঘটনা বিরল। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৪ সালে বাংলাদেশি কিশোরদের নির্মিত ‘আমরাও পারি’ প্রামাণ্যচিত্র বিশেষ আন্তর্জাতিক এমি সম্মাননা পেয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এই মনোনয়ন বাংলাদেশের সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাজ আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছানোর পথ আরও সহজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জুলকারনাইন সায়ের।
এবারের আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডসে ১৬টি বিভাগে ২২টি দেশের মোট ৬৪টি অনুষ্ঠান ও শিল্পী মনোনয়ন পেয়েছেন। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান আগামী ২৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ফলাফল যাই হোক, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রামাণ্যচিত্রটির কাজ কতটা ভূমিকা রাখতে পেরেছে—সেটিকেই এর প্রকৃত গুরুত্ব হিসেবে দেখছেন জুলকারনাইন সায়ের।