রবিবার , ০৪ অক্টোবর ২০২৬
রবিবার , ০৪ অক্টোবর ২০২৬
হোম › সারা দেশ › রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় গাইবান্ধার বীরাঙ্গনা ফুলমতিকে

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় গাইবান্ধার বীরাঙ্গনা ফুলমতিকে

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় গাইবান্ধার বীরাঙ্গনা ফুলমতিকে

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধাহত নারী মুক্তিযোদ্ধা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার এই বীর নারী ৮৪ বছর বয়সে মারা গেছেন।


শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে সাদুল্লাপুরের উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হক রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করেন। এ সময় সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) হাসান কবীরসহ প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


পরে হিন্দুধর্মীয় রীতি অনুসারে নিজ বাড়ির উঠানে পূর্বসূরিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।


এর আগে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর নিজ বাড়িতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন ফুলমতি। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। প্রায় দুই বছর আগে ব্রেন স্ট্রোকে তাঁর ডান হাত ও পা অবশ হয়ে যায়। এরপর থেকে প্রায় পুরোপুরি শয্যাশায়ী ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি চার ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।


লেখক ও গবেষক জহুরুল কাইয়ুম সম্পাদিত ‘হৃদয়ে একাত্তর’ গ্রন্থের তথ্য অনুযায়ী, ফুলমতি রানি নামে পরিচিত এই বীরাঙ্গনার জন্ম গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা তাঁকে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালায়। গ্রন্থটিতে উল্লেখ রয়েছে, তাঁর স্বামীর বুকে রাইফেল ঠেকিয়ে তাঁর সামনেই ফুলমতির ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল।


মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ৪৫ বছর পর ২০১৬ সালের মার্চে বীরাঙ্গনা ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পান ফুলমতি। পরের বছর, ২০১৭ সালে তাঁর জন্য নির্মাণ করা হয় চার কক্ষবিশিষ্ট ‘বীর নিবাস’।


১৯৮৮ সালে স্বামী কুশিরাম সরকার ফসিয়ার মৃত্যুর পর পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে সংগ্রাম করে জীবন কাটান তিনি। নানা অভাব-অনটনের মধ্যেও আত্মমর্যাদা বজায় রেখে জীবনযাপন করেছেন এই বীরাঙ্গনা।


তাঁর মৃত্যুতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক নির্যাতিত অথচ সাহসী নারী অধ্যায়ের অবসান ঘটল।