সোমবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সোমবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › আফগানিস্তানে বিমান হামলার পর দোহায় মুখোমুখি বসছে পাকিস্তান ও তালেবান সরকার

আফগানিস্তানে বিমান হামলার পর দোহায় মুখোমুখি বসছে পাকিস্তান ও তালেবান সরকার

favicon
অনলাইন সংস্করণ
আফগানিস্তানে বিমান হামলার পর দোহায় মুখোমুখি বসছে পাকিস্তান ও তালেবান সরকার

আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হওয়ার মাত্র এক দিন পর আলোচনায় বসতে যাচ্ছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। শনিবার (১৯ অক্টোবর) কাতারের রাজধানী দোহায় এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।


বৈঠকে অংশ নিতে আজই দোহায় যাচ্ছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান জেনারেল আসিম মালিক।


অন্যদিকে, আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানান, “ইসলামিক আমিরাতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ইয়াকুবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দোহায় রওনা দিয়েছে।”


দুই দেশের সীমান্তে গত এক সপ্তাহ ধরে চলা সংঘর্ষে সেনা ও বেসামরিকসহ বহু মানুষ নিহত হওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টার একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে শুক্রবার গভীর রাতে আফগানিস্তান অভিযোগ করে, পাকিস্তান সেই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে পাকতিকা প্রদেশে তিনটি স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে।


এক জ্যেষ্ঠ তালেবান কর্মকর্তা ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে বলেন, “পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি ভেঙে আমাদের ভূখণ্ডে বোমা হামলা চালিয়েছে। আফগানিস্তান এর প্রতিশোধ নেবে।”


স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন, নিহতদের মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসি‌বি) জানায়, হামলার এলাকায় ঘরোয়া টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া তিন ক্রিকেটার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর তারা আসন্ন ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে পাকিস্তানও অংশ নেওয়ার কথা ছিল।


অন্যদিকে, পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপি-কে জানান, তাদের বাহিনী সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় “টার্গেটেড প্রিসিশন এয়ারস্ট্রাইক” চালিয়েছে। লক্ষ্যবস্তু ছিল হাফিজ গুল বাহাদুর গ্রুপ, যা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সহযোগী সন্ত্রাসীগোষ্ঠী বলে দাবি ইসলামাবাদের।


পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই একই গ্রুপ সম্প্রতি উত্তর ওয়াজিরিস্তানের একটি সামরিক ক্যাম্পে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও বন্দুক হামলায় জড়িত ছিল, যেখানে সাতজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন।


দুই প্রতিবেশী দেশের সাম্প্রতিক সংঘর্ষে সীমান্ত পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ফলে কাতারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বৈঠককে বিশ্লেষকরা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।


সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড