চীনের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে ‘বৃহৎ গুপ্তচরবৃত্তি অভিযানের’ অভিযোগ
চীনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে ‘বৃহৎ আকারের গুপ্তচরবৃত্তি অভিযান’ পরিচালনা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্রিটিশ সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রকাশিত এক নথিতে যুক্তরাজ্যের উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ম্যাথিউ কলিন্স জানান, চীনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির কর্মকাণ্ড যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী ছিল। তারা এমন কিছু তথ্য ও উপকরণ সরবরাহ করেছিলেন, যা ‘চীনা রাষ্ট্রের সরাসরি বা পরোক্ষভাবে উপকারে আসতে পারত।’
তবে কলিন্স একইসঙ্গে বলেন, যুক্তরাজ্য চীনের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার ভাষায়, “আমরা যেখানে পারি সহযোগিতা করব, যেখানে প্রয়োজন প্রতিযোগিতা করব, আর যেখানে বাধ্য হব, সেখানে চ্যালেঞ্জ জানাব—বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে।”
মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন ৩০ বছর বয়সী সাবেক সংসদ গবেষক ক্রিস্টোফার ক্যাশ এবং ৩৩ বছর বয়সী শিক্ষক ক্রিস্টোফার বেরি। অভিযোগ রয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তারা এক কথিত চীনা গোয়েন্দা এজেন্টের কাছে সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। তবে তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
গত মাসে ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) হঠাৎ করে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়, কারণ সরকার চীনের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় নথি সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়।
এই ঘটনার পর যুক্তরাজ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সমালোচনার মুখে সরকার তিনটি সাক্ষ্যনথি প্রকাশ করে, যেখানে কলিন্স উল্লেখ করেন যে চীনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ‘অত্যন্ত দক্ষ’ এবং তারা যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে ‘বৃহৎ পরিসরে গুপ্তচরবৃত্তি কার্যক্রম’ পরিচালনা করছে—যা দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য গুরুতর হুমকি।