সুদানের এল-ফাশারে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের গণহত্যা: হাসপাতালে শত শত বেসামরিক নিহত
সুদানের এল-ফাশার শহর দখলের কয়েকদিন পর র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) মিলিশিয়ারা শহরের প্রধান হাসপাতালে শত শত বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস।
তিনি জানান, সৌদি হাসপাতালে ৪৬০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিস্মিত ও গভীরভাবে মর্মাহত।
এর আগে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছিল,
“আরএসএফ যোদ্ধারা হাসপাতালে যাদের পেয়েছে, তাদের সবাইকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করেছে।”
নিহতদের মধ্যে রোগী, তাদের আত্মীয় ও হাসপাতালের কর্মচারীরাও রয়েছেন। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, শহরের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোকে এখন “মানব কসাইখানায়” পরিণত করা হয়েছে।
ডক্টরস নেটওয়ার্কের অভিযোগ, আরএসএফ ছয়জন চিকিৎসককে অপহরণ করে এবং তাদের মুক্তির জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার মুক্তিপণ দাবি করেছে।
স্থানীয় এল-ফাশার প্রতিরোধ কমিটি জানিয়েছে, শহরে বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে। এটি ছিল দারফুর অঞ্চলে সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি, যা ১৮ মাসের সংঘাতের পর রবিবার আরএসএফ দখল করে নেয়।
ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়
২০২৩ সাল থেকে চলা গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এল-ফাশার পতনের পর জাতিসংঘ ও সাহায্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে, শহরে আটকা পড়া আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষের জীবন এখন ঝুঁকির মুখে।
বিবিসি ভেরিফাই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক ভিডিওগুলোতে আরএসএফ যোদ্ধাদের নিরস্ত্র মানুষ হত্যা করতে দেখা যাচ্ছে।
এক পালিয়ে আসা ব্যক্তি বিবিসিকে বলেন,
“শনিবার গোলাগুলি এত ভয়াবহ ছিল যে পালিয়ে আসা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। পথে আরএসএফ আমাদের মারধর করেছে, ভিডিও করেছে এবং মুক্তিপণ দাবি করেছে। কিছুজনকে মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।”
স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ধ্বংস
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সুদানে ১৮৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে, এতে ১,২০৪ জন নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের সাবেক মানবিক সমন্বয়ক জ্যান এগেল্যান্ড বলেন,
“এটি এখন পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট। অনাহার, চিকিৎসার অভাব ও গণহত্যা মিলে এটি এক নরক হয়ে উঠেছে।”
দেশ বিভক্ত
এল-ফাশার দখলের পর সুদান কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে।
আরএসএফ দারফুর ও কর্দোফানের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
সেনাবাহিনী রাজধানী খার্তুম ও লোহিত সাগর তীরবর্তী পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে।
দুই পক্ষ একসময় মিত্র ছিল—২০২১ সালের অভ্যুত্থানে তারা একসঙ্গে ক্ষমতায় আসে। কিন্তু বেসামরিক শাসনে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধ শুরু হলে দেশজুড়ে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
সূত্র: বিবিসি