সোমবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সোমবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › সুদানে ভয়াবহ গণহত্যা ও নিপীড়ন: জাতিসংঘের সতর্কবার্তা, এল-ফাশারের পতনে নতুন সংকট

সুদানে ভয়াবহ গণহত্যা ও নিপীড়ন: জাতিসংঘের সতর্কবার্তা, এল-ফাশারের পতনে নতুন সংকট

favicon
অনলাইন সংস্করণ
সুদানে ভয়াবহ গণহত্যা ও নিপীড়ন: জাতিসংঘের সতর্কবার্তা, এল-ফাশারের পতনে নতুন সংকট

সুদানের পশ্চিম দারফুরের প্রধান শহর এল-ফাশার দখলের পর ভয়াবহ নৃশংসতা চালাচ্ছে আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। স্থানীয়দের অভিযোগ, শহর থেকে পালানোর সময় বেছে বেছে সুস্থ পুরুষদের গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে।


প্রত্যক্ষদর্শী ইকরাম নামে এক নারী বলেন,


“যোদ্ধারা পুরুষদের ধরে লাইনে দাঁড় করায় এবং আমাদের সামনেই গুলি করে হত্যা করে। আমরা চিৎকার করলে আমাদেরও লাইনে দাঁড়াতে বলে, পরে চলে যেতে বলা হয়। আমরা শুধু পিছন থেকে গুলির শব্দ ও চিৎকার শুনেছিলাম — তাদের আর কখনো দেখিনি।”


ইয়েল স্কুল অফ পাবলিক হেলথের হিউম্যানিটেরিয়ান রিসার্চ ল্যাব জানিয়েছে, আরএসএফ এল-ফাশেরে অনারব জনগোষ্ঠীর ওপর জাতিগত নিধন চালাচ্ছে।


 কীভাবে শুরু হলো সুদানের গৃহযুদ্ধ


২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানের সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও আরএসএফ কমান্ডার মোহাম্মদ হামদান দাগালোর মধ্যে ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরু হয়।

২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর, আরএসএফ এল-ফাশারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের দাবি করে—যা পশ্চিম দারফুরের সর্বশেষ সেনানিয়ন্ত্রিত শহর ছিল।


স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো, যেমন ষষ্ঠ ডিভিশনের সদর দপ্তর ও ১৫৭তম আর্টিলারি ব্রিগেড—সবই এখন আরএসএফের দখলে। আগুনে পোড়া ভবন, ধ্বংসস্তূপ এবং টি-৫৫ ট্যাংকের উপস্থিতি সেখানে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।


⚠️ জাতিসংঘের উদ্বেগ ও সতর্কবার্তা


জাতিসংঘের মানবিক প্রধান টম ফ্লেচার বলেন,


“দারফুরের শেষ শহর এল-ফাশার এখন এক ভয়াবহ নরকে পরিণত হয়েছে। সেখানে নারী ও কিশোরীদের ধর্ষণ করা হচ্ছে, মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে।”


জাতিসংঘ জানিয়েছে, ১৮ মাসের অবরোধের পর এল-ফাশারের পতন দারফুরে ২০ বছর আগের জাতিগত গণহত্যার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি করেছে।


জাতিসংঘের আফ্রিকা বিষয়ক সহকারী মহাসচিব মার্থা পোবি জানান, আরএসএফের হাতে শুধু কোর্দোফানের বারা শহরেই অন্তত ৫০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচজন রেড ক্রিসেন্টের কর্মীও ছিলেন। তিনি সতর্ক করেন, “কোর্দোফান এখন পরবর্তী যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে।”


 মানবিক বিপর্যয়


জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত দশ-দশ হাজার মানুষ নিহত, লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত, এবং দেশটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে।


জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে এল-ফাশারে আরএসএফের হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং বৃহৎ পরিসরের জাতিগত গণহত্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।


বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে সুদান আবারও ২০০৩ সালের দারফুর গণহত্যার মতো ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।