নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র: জোহরান মামদানি লিখলেন নতুন অধ্যায়
নিউইয়র্ক সিটি পেয়েছে তার ইতিহাসের প্রথম মুসলিম এবং সর্বকনিষ্ঠ মেয়র—জোহরান মামদানিকে। ১৮৯২ সালের পর এই প্রথম শহরের নেতৃত্বে এলেন এত তরুণ একজন রাজনীতিক। প্রখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানির সন্তান জোহরানের জন্ম ১৯৯১ সালের ১৮ অক্টোবর, উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায়।
মাত্র ৩৪ বছর বয়সে নিউইয়র্কের নেতৃত্বে উঠে আসা মামদানি প্রায় কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দলীয় সমর্থন ছাড়াই নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছিলেন। সীমিত অর্থ ও সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তিনি সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস সিলওয়াকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েছেন।
বামপন্থী ভাবধারার এই তরুণ রাজনীতিক দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ন্যায়বিচার, বিনামূল্যে শিশু যত্ন, গণপরিবহন সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের নীতিতে বিশ্বাসী এবং তার প্রচারণায় সাধারণ মানুষের জীবিকা, ব্যয় ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
তবে তার সমালোচকরাও কম নন। রক্ষণশীল রাজনীতিকরা তাকে “চরম বামপন্থার মুখ” বলে অভিযুক্ত করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে তার নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কার্যকর করা বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে কর বৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক অভিজাতদের বিরুদ্ধে তার অবস্থান অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
গাজা যুদ্ধের সময় ইসরায়েলের কার্যকলাপের তীব্র সমালোচনা করে তিনি আলোচনায় আসেন। এমনকি তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন—ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে গ্রেপ্তার করা উচিত। এই বক্তব্য ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে তার জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর ক্যাথি হোচুল ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, মামদানির উচ্চাভিলাষী নীতিগুলো বাস্তবায়নে তিনি কর বৃদ্ধির বিরোধিতা করবেন। ফলে শহর পরিচালনায় তাকে বাস্তবতা ও আদর্শের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জোহরান মামদানির এই বিজয় শুধুমাত্র নিউইয়র্ক নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রগতিশীল রাজনীতির দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এখন নজর থাকবে—তিনি কীভাবে তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দেবেন এবং নিউইয়র্কবাসীর আস্থা ধরে রাখতে পারেন।
সূত্র: বিবিসি