ইসরায়েলের লেবানন হামলার নিন্দা ইইউর, হিজবুল্লাহকে সংযমের আহ্বান
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। শনিবার (৮ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে ইইউর পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র আনোয়ার এল আনৌনি এই আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন,
“ইইউ ইসরায়েলকে আহ্বান জানাচ্ছে যেন তারা জাতিসংঘের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয়।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“আমরা সব লেবাননি পক্ষকে—বিশেষ করে হিজবুল্লাহকে—আহ্বান জানাচ্ছি যেন তারা এমন কোনো পদক্ষেপ বা প্রতিক্রিয়া না নেয় যা উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে। এখন সবার দায়িত্ব যুদ্ধবিরতি রক্ষা করা এবং ইতিমধ্যে অর্জিত অগ্রগতি ধরে রাখা।”
এর আগে বৃহস্পতিবার ইসরায়েল দাবি করে যে তারা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। হামলার আগে ওই অঞ্চলের চারটি গ্রামের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেয় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
লেবাননের সেনাবাহিনী অভিযোগ করে, ইসরায়েলের এই হামলা দেশটির স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে এবং যুদ্ধবিরতি অনুযায়ী সেনা মোতায়েনের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান, আর ইরান একে “বর্বরোচিত” বলে আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানায়।
উল্লেখ্য, লেবানন ও ইসরায়েল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে লেবাননের সেনাবাহিনী নয়, বরং হিজবুল্লাহই অংশ নিয়েছে। ১৯৭৫–১৯৯০ সালের গৃহযুদ্ধের পর লেবাননের সব সশস্ত্র গোষ্ঠী নিরস্ত্র হলেও হিজবুল্লাহ অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। গোষ্ঠীটি ইরানের সমর্থনে পরিচালিত এবং নিজেদের ‘দেশের রক্ষাকর্তা’ হিসেবে দাবি করে আসছে।