সোমবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সোমবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় মেয়র জোহরান মামদানি, নাগরিকত্ব নিয়ে রিপাবলিকানদের বিতর্ক

নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় মেয়র জোহরান মামদানি, নাগরিকত্ব নিয়ে রিপাবলিকানদের বিতর্ক

favicon
অনলাইন সংস্করণ
নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় মেয়র জোহরান মামদানি, নাগরিকত্ব নিয়ে রিপাবলিকানদের বিতর্ক

নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় অর্জন করেছেন জোহরান মামদানি। শহরের প্রথম মুসলিম ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়লেন তিনি। তবে তার এই জয় ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক ও সমালোচনা।

ওয়াশিংটন ডিসির রিপাবলিকান নেতারা অভিযোগ করেছেন, মামদানির নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এমনকি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও হুমকি দিয়েছেন— মামদানি মেয়র নির্বাচিত হলে নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উগান্ডায় জন্ম নেওয়া ৩৪ বছর বয়সী মামদানির নাগরিকত্ব নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাম্প ও তার সমর্থকরা। তারা মিথ্যা অভিযোগ তুলে মামদানিকে ‘কমিউনিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসবাদের সমর্থক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা মামদানির নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেছেন, তিনি যদি আবেদনপত্রে মিথ্যা তথ্য দিয়ে থাকেন, তবে নাগরিকত্ব বাতিল করে তাকে দেশত্যাগে বাধ্য করা উচিত। ফ্লোরিডার প্রতিনিধি র‍্যান্ডি ফাইন বলেন, “একজন কমিউনিস্টের হাতে নিউইয়র্কের মতো শহর চলতে পারে না।”

তবে ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, নাগরিকত্ব বাতিল একটি জটিল ও বিরল প্রক্রিয়া, যা কেবল আদালতের আদেশেই সম্ভব এবং এর জন্য শক্ত প্রমাণ প্রয়োজন। মামদানির ক্ষেত্রে এমন কোনো প্রমাণ নেই।

জোহরান মামদানি ১৯৯৮ সালে সাত বছর বয়সে উগান্ডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং ২০১৮ সালে নাগরিকত্ব অর্জন করেন। রিপাবলিকানদের অভিযোগ, তিনি তার রাজনৈতিক পরিচয় ও ‘ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (DSA)’ সদস্যপদ নাগরিকত্ব আবেদনপত্রে উল্লেখ করেননি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডিএসএ কোনো কমিউনিস্ট সংগঠন নয়, এবং সদস্যপদ লুকানো নাগরিকত্ব প্রতারণা হিসেবে গণ্য হয় না।

সূত্র: আল জাজিরা