সোমবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সোমবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › হোয়াইট হাউসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক: হাস্যরস, ইতিহাস ও কূটনৈতিক বার্তা

হোয়াইট হাউসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক: হাস্যরস, ইতিহাস ও কূটনৈতিক বার্তা

favicon
অনলাইন সংস্করণ
হোয়াইট হাউসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক: হাস্যরস, ইতিহাস ও কূটনৈতিক বার্তা

সোমবার (১১ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাকে স্বাগত জানান। বৈঠকের সময় ট্রাম্প নিজের ব্র্যান্ডের একটি সুগন্ধির বোতল উপহার দেন আল-শারাকে এবং সেটি নিজ হাতে তাঁর গায়ে স্প্রে করে দেন।

এরপর ট্রাম্প রসিকতা করে বলেন, “এটাই সেরা ঘ্রাণ... আর অন্য বোতলটি আপনার স্ত্রীর জন্য।” এরপর হাসতে হাসতে প্রশ্ন করেন, “আপনার স্ত্রী কয়জন?” জবাবে আল-শারা বলেন, “একজন।” মুহূর্তেই উপস্থিত সবাই হেসে ওঠেন। ট্রাম্পও হেসে যোগ করেন, “তবে জানেন তো, কখন কী হয় বলা যায় না!”

এই সফর ছিল সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের আন্তর্জাতিক সংযোগ জোরদারের প্রচেষ্টার অংশ। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের নেতা হিসেবে আহমেদ আল-শারা এখন নতুন বার্তা দিচ্ছেন—তাঁর দল ‘হায়াত তাহরির আল-শাম’ পশ্চিমা বিশ্বের জন্য কোনো হুমকি নয়, বরং তারা বাশার আল-আসাদের সরকারকে উৎখাত করে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

ওয়াশিংটনে আগমনের সময় আল-শারা মূল ফটক এড়িয়ে পাশের গেট দিয়ে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করেন। তবে তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছিল না। হোয়াইট হাউসে তাঁর দেশের পতাকাও উড়ানো হয়নি।

বৈঠকের সময় আল-শারা ট্রাম্পকে প্রাচীন সিরীয় নিদর্শনের প্রতিরূপ উপহার দেন। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের সবারই কঠিন অতীত আছে, কিন্তু তাঁরটা সবচেয়ে কঠিন। তবে এমন অভিজ্ঞতা থাকলেই নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার সাহস পাওয়া যায়।”

আল-শারার স্ত্রী লতিফা আল-দ্রৌবি, যাঁর জন্ম ১৯৮৪ সালের দিকে। দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে আল-শারার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়, এবং ২০১২ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে।

বৈঠকের এক দিন পর সিরিয়া ঘোষণা দেয় যে তারা আইসিস-বিরোধী বৈশ্বিক জোটে যোগ দিচ্ছে। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ওপর আরোপিত ‘সিজার অ্যাক্ট’ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদে শিথিলতা আনে। তবে নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহারের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

বৈঠক শেষে ট্রাম্প আল-শারার প্রশংসা করে বলেন, “তিনি এসেছেন এক ভয়ংকর কঠিন জায়গা থেকে, এবং তিনিও এক কঠিন মানুষ। আমি তাঁকে পছন্দ করি।”

উল্লেখ্য, একসময় ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে আহমেদ আল-শারা ছিলেন আল-কায়েদার সাবেক কমান্ডার ও ‘সন্ত্রাসী’। তাঁর মাথার ওপর একসময় যুক্তরাষ্ট্র ১ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। ১৯৪৬ সালে সিরিয়ার স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো সিরীয় প্রেসিডেন্ট হোয়াইট হাউসে সরকারি সফরে গেলেন।

এই ঐতিহাসিক সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে এমন সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরও ১৮০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সূত্র: আরটি, হিন্দুস্তান টাইমস