ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় রাহুল–সোনিয়ার বিরুদ্ধে নতুন অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
ভারতের ন্যাশনাল হেরাল্ড অর্থ পাচার মামলায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও দলের সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ নতুন করে একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ দমন শাখা (ইওডব্লিউ) এনডিটিভিকে জানিয়েছে, সদ্য দায়ের করা এফআইআরে ছয়জন ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নতুন এফআইআরে রাহুল ও সোনিয়া গান্ধীর পাশাপাশি স্যাম পিত্রোদা, মতিলাল ভোরা, অস্কার ফার্নান্দেজ, সুমন দুবে, অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড (এজেএল), ইয়ং ইন্ডিয়ান এবং কলকাতাভিত্তিক কথিত শেল কোম্পানি ডটেক্স মার্চেন্ডাইজ প্রাইভেট লিমিটেডকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডটেক্স মার্চেন্ডাইজ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইয়ং ইন্ডিয়ানকে ১ কোটি রুপি দেয়। আর কংগ্রেসের শীর্ষ দুই নেতা রাহুল ও সোনিয়া গান্ধী এই ইয়ং ইন্ডিয়ানের ৭৬ শতাংশ শেয়ারের মালিক। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এই লেনদেনের সুযোগে মাত্র ৫০ লাখ রুপি বিনিয়োগ করে ইয়ং ইন্ডিয়ান প্রায় দুই হাজার কোটি রুপির এজেএলের নিয়ন্ত্রণ নেয়।
ইডির তদন্ত নথির ভিত্তিতে গত ৩ অক্টোবর এফআইআরটি দায়ের করা হয়। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের ধারা ৬৬(২) অনুযায়ী, ইডি অন্য সংস্থাকে তদন্ত ও মামলা পরিচালনার নির্দেশ দিতে পারে। দিল্লির আদালত ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলার শুনানি ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করার পরদিনই নতুন এফআইআর সামনে আসে।
মামলাটির সূত্রপাত ২০১২ সালে, যখন বিজেপি নেতা সুব্রামানিয়ান স্বামী অভিযোগ করেন যে প্রতারণার মাধ্যমে কংগ্রেস নেতারা এজেএলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছেন। এজেএলই একসময় ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকা প্রকাশ করত, যা ১৯৩৮ সালে জওহরলাল নেহেরু ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। আর্থিক সংকটে পড়ে ২০০৮ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া ঋণ দাঁড়ায় প্রায় ৯০ কোটি রুপি।
কংগ্রেস দাবি করে, এজেএল ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় তা ইকুইটি শেয়ারে রূপান্তর করা হয় এবং দলীয়ভাবে শেয়ার না রাখার বাধ্যবাধকতায় ২০১০ সালে এগুলো হস্তান্তর করা হয় অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইয়ং ইন্ডিয়ানের কাছে। ইয়ং ইন্ডিয়ানের অধিকাংশ শেয়ারের মালিক রাহুল ও সোনিয়া গান্ধী, বাকিটা ভাগ ছিল মতিলাল ভোরা, অস্কার ফার্নান্দেজ, স্যাম পিত্রোদা ও সুমন দুবের।
ন্যাশনাল হেরাল্ড–সংক্রান্ত লেনদেন নিয়ে ইডি দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। কংগ্রেসের অভিযোগ—এই তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিজেপির প্রতিশোধমূলক আচরণের ফল।