সোমবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৬
সোমবার , ১৯ অক্টোবর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন কোর্টে বড় সংকট: বিচারক বরখাস্তের ঢল, স্থবিরতার শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন কোর্টে বড় সংকট: বিচারক বরখাস্তের ঢল, স্থবিরতার শঙ্কা

favicon
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন কোর্টে বড় সংকট: বিচারক বরখাস্তের ঢল, স্থবিরতার শঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ইমিগ্রেশন সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল ভবনের ব্যস্ততম ইমিগ্রেশন কোর্টে আরো ৮ জন বিচারককে বরখাস্ত করা হয়েছে। ‘দ্য ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব ইমিগ্রেশন জাজ’-এর তথ্য উদ্ধৃত করে মার্কিন একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিক সোমবার বিষয়টি প্রকাশ করে।


চলতি বছর দেশব্যাপী মোট ৯০ জন ইমিগ্রেশন বিচারক বরখাস্ত হয়েছেন, যার মধ্যে নিউইয়র্কের বিচারক রয়েছেন ৬ জন। অভিবাসন আইনজীবীরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতিতে ইমিগ্রেশন কোর্টগুলোর কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে পড়বে।


ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী নির্দেশনা জোরদার করার মধ্যেই এই বরখাস্তের ঘটনা ঘটছে। আইন অনুযায়ী গ্রেফতারের পর বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তির আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাওয়ার কথা। বিচারক সংকটের কারণে অনেক আটক অভিবাসী সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলেও সতর্ক করছেন এটর্নিরা।


বরখাস্ত হওয়া বিচারকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোর্টের সুপারভাইজিং বিচারক আমিনা এ. খান। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বরখাস্ত হওয়া ৯০ জনের বিপরীতে এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৬ জন নতুন বিচারক নিয়োগ পেয়েছেন।


বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৬০০টিরও বেশি ইমিগ্রেশন কোর্টে প্রায় ৩৭ লাখ মামলা ঝুলে আছে। এসব মামলার ওপর নির্ভর করছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন, পারিবারিক কোটা, ভিসা জটিলতা ও স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।


মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিচারক সংকটের কারণে বহু মামলার শুনানি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে গেছে। এমনকি অনেক আশ্রয় আবেদন শুনানি ছাড়াই বাতিল করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানা গেছে।


সম্প্রতি ওয়াশিংটনে এক আফগান অভিবাসীর গুলিতে ন্যাশনাল গার্ড সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও কঠোর হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন আফগানিস্তানসহ ১৯ দেশের নাগরিকদের ভিসা নিষিদ্ধ করেছে এবং আশ্রয়–সম্পর্কিত ঝুলে থাকা মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা অভিযোগ তুলেছেন—একজন ব্যক্তির অপরাধের দায় বিশ্বজুড়ে অসহায় অভিবাসীদের ওপর চাপানো হচ্ছে, যা মানবিকতা ও আইন উভয়ের পরিপন্থী।