দীর্ঘ দশকের অবরুদ্ধতা ভেঙে লেবানন–ইসরায়েল বেসামরিক প্রতিনিধিদের প্রথম বৈঠক
লেবানন ও ইসরায়েলের বেসামরিক প্রতিনিধিরা কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি আলোচনায় বসেছেন। বুধবার নাকুরায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর লেবানন সদর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হিজবুল্লাহর সঙ্গে চলমান সংঘাতের পর এক বছর আগে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ কাঠামোর অংশ হিসেবে এই আলোচনা আয়োজন করা হয়েছে বলে বৈঠক-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের লেবাননবিষয়ক বিশেষ দূত মরগান অর্টাগাসও উপস্থিত ছিলেন। এর আগের দিন তিনি জেরুজালেমে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সারের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য মতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
ইসরায়েল ও লেবানন—যাদের মধ্যে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই—এতদিন এ ধরনের আলোচনায় কেবল সামরিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে জোর দিত। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের প্রেক্ষিতে এবার দুই দেশই বেসামরিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও হিজবুল্লাহকে দুর্বল করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ।
ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা এই বৈঠকে প্রথমবারের মতো একজন বেসামরিক প্রতিনিধিকে পাঠিয়েছে, যা দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক গঠনের ভিত্তি হতে পারে। একইভাবে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের দপ্তর জানিয়েছে, তাদের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত সিমন কারাম।
এর আগে লেবানন ঘোষণা দিয়েছিল যে, দক্ষিণের প্রতিবেশী ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তারা প্রস্তুত। অন্যদিকে নেতানিয়াহু বহুবার বলেছেন, লেবাননের আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়া উচিত—যে চুক্তির মাধ্যমে একাধিক আরব ও মুসলিম দেশ ইতোমধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে।